E-Paper

পঞ্চায়েত দফতর পাচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিস্তর অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল একশো দিনের কাজের প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৯:০২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামোন্নয়নে বরাদ্দের দরজা খুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প ছাড়াও পুরনো একশো দিনের কাজের প্রকল্পের বকেয়া কিছু বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। যে বরাদ্দ আটকে ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা হাতে পেতে চলেছে পঞ্চায়েত দফতর। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে একলপ্তে এত বড় বরাদ্দ কেন্দ্রের থেকে পাওয়া যায়নি, জানাচ্ছেন আধিকারিকদের একাংশ।

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিস্তর অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল একশো দিনের কাজের প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। তা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েন কম হয়নি। বরাদ্দ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই হওয়ায়, আদালত বরাদ্দ চালু করতে বলে কেন্দ্রকে। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে কড়া নজরদারিতেও ছাড় দেয় আদালত। এ বার সেই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা রাজ্যকে দিচ্ছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, জুন মাসের মজুরি-বরাদ্দ হিসাবেই এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। তাতে প্রায় ১.৫৩ কোটি কর্মদিবসের কাজ সম্ভব। প্রসঙ্গত, সমসংখ্যক শ্রমিক ওই প্রকল্পে জবকার্ড থাকা নথিবদ্ধ উপভোক্তা। পাশাপাশি, ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা কর্মসূচির আওতায় ‘জি-রাম-জি’ প্রকল্পেও ১৪,১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের বার্তা রাজ্যকে দিয়েছে কেন্দ্র। তার মধ্যে কেন্দ্রের ভাগ ৮৫০৮ কোটি টাকা। বাকি ৫৬৭২ কোটি টাকা দেওয়ার কথা রাজ্যের। কারণ, ‘জি-রাম-জি’ প্রকল্পে মোট খরচের মধ্যে কেন্দ্রের ৬০ এবং রাজ্যের ৪০ ভাগ বরাদ্দ দেওয়ার কথা। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা এবং পঞ্চায়েতের অধীনে কিছু পেনশন প্রকল্প বাবদ আরও প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা পাচ্ছে রাজ্য।

প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, বিগত একশো দিনের কাজের প্রকল্পের আইন সংশোধন করেই ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা হিসেবে ‘জি-রাম-জি’ প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। আগামী মাসের গোড়া থেকেই রাজ্যে প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা। তাতে একশো দিনের কাজের প্রকল্পের যাচাই এবং জবকার্ড থাকা শ্রমিকেরা কাজ পাবেন। স্থায়ী সম্পদ তৈরি, বন্যা-বিপর্যয়ের পরে সংস্কার, গ্রামীণ পরিকাঠামোর মতো স্থায়ী কাজ বেছে নিলে তবে তা মঞ্জুর করবে কেন্দ্র। এতে এক দিকে যেমন স্থায়ী সম্পদ তৈরি হবে, তেমনই কাজগুলির প্রমাণ দাখিল করাও অনেক সহজ। স্থায়ী পরিকাঠামোগুলি মানুষের কাজে ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি, সেগুলি থেকে আয়ও হতে পারে সরকারের। এক কর্তার কথায়, “বিগত সরকারের আমলে একশো দিনের কাজের যাচাই করতে এসে কেন্দ্রীয় দল দেখেছিল, পুকুর কাটার দাবি তখনকার প্রশাসন করলেও, সেই কাজের প্রকৃত অবস্থান নদীর মাঝে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে কাজের দাবি এবং বাস্তবের ফারাক কতটা ছিল। নতুন প্রকল্পে তেমন হওয়া কঠিন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Panchayat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy