তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বালু। অন্য দিকে, শুক্রবারই শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। পুর কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।
দলের সমস্ত পদ ছাড়ার কারণ জানিয়ে শুক্রবার জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয়কে দলের কর্মসমিতির সদস্য করেছিল তৃণমূল। এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই দলের সমস্ত পদ ছে়ড়ে দিলেন তৃণমূলের প্রথম দিকের ‘সৈনিক’ জ্যোতিপ্রিয়। ইতিমধ্যেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
জ্যোতিপ্রিয়ের পদত্যাগ তৃণমূলের অনেককে বিস্মিত করলেও গৌতম যে মেয়র পদ ছাড়তে চলেছেন, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর বিভিন্ন পুরসভা এবং পুরনিগমের চেয়ারম্যান এবং মেয়রেরা পদত্যাগ করছেন। ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। এ বার রাজ্যের আর এক পুরনিগম শিলিগুড়ির মেয়রও পদত্যাগ করলেন। অর্থাৎ, শিলিগুড়ির পুরবোর্ডও ভেঙে গেল।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবারই পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন গৌতম। ওই বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করলে মেয়র পারিষদদের একাংশ তাঁকে বাধা দেন। শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের আরও এক বছর কাজের মেয়াদ ছিল। তাই অনেক মেয়র পারিষদই ইস্তফা দিতে চাননি। তবে গৌতম সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, তৃণমূলনেত্রী চাইছেন গৌতম দলীয় সংগঠনে আরও বেশি করে নজর দিন।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে জিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী হয়েছিলেন গৌতম। ২০১৬ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর পর্যটনমন্ত্রী হন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে দাঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান। ২০২৬ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি তিনি। হেরে যান বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কাছে। এর মাঝে ২০২২ সালের শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচনে গৌতমের নেতৃত্বে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এবার সেই পুরনির্বাচনও হাতাছাড়া হচ্ছে তাদের।
অন্য দিকে, ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। একাধিক বার তাঁকে টিকিট দিয়েছে দল। বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রীও হয়েছেন। খাদ্যমন্ত্রী থাকার সময় রেশন দুর্নীতিতে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় জেলে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তার পরেও অবশ্য জ্যোতিপ্রিয়ের উপর ভরসা রেখেছিলেন মমতা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েন তিনি। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের কাছে হেরে যান।