নিট পুনঃপরীক্ষার আয়োজনে কোনও গাফিলতি নয়। প্রবেশিকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দফায় দফায় কেন্দ্রের তরফে বৈঠক করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের তরফে পরীক্ষার আয়োজন খতিয়ে দেখতে বিশেষ বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বচ্ছতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে পরীক্ষার আয়োজনের কথা বলেন।
কর্মী-আধিকারিকদের সময়মতো পৌছনোর নির্দেশ
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা যাতে সময় মতো নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যান, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সব কর্মী, আধিকারিককে সতর্ক থাকতে হবে। প্রবেশিকা আয়োজনে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের রিপোর্ট সরাসরি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) অধিকর্তাকে পাঠাতে হবে।
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রতিটি কেন্দ্রে যথাযথ ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থীদের যেন কোনও রকম অসুবিধে না হয়, রাজ্য সরকারের নোডাল অফিসারদের তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন
পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এনটিএ। নিয়ামক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ২১ জুনের পরীক্ষায় বায়োমেট্রিক ভ্যারিফিকেশনের ব্যবস্থা থাকতে প্রতিটি কেন্দ্রে। কোনও পরীক্ষার্থীর তথ্য যাচাই না করে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি হলে সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে।
যান্ত্রিক ত্রুটি হলে পরীক্ষার্থীর করণীয়
জানা গিয়েছে, এ জন্য তাঁদের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে একটি চিঠি পরীক্ষাকেন্দ্রে জমা দেওয়া আবশ্যক। কী ভাবে তা লিখতে হবে, সেই বিষয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের আধিকারিকরা সাহায্য করে দেবেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও সমস্যা হলে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর এবং শেষ হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের কোনও ভাবেই বিরক্ত করা যাবে না। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আধিকারিকেরা এই বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।
বিশেষ হোয়াটস্অ্যাপ নম্বর
এনটিএ-র তরফে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরাসরি জেনে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নম্বর থেকে নিয়মিত পরীক্ষা সংক্রান্ত খবর জেনে নিতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। তবে, কোনও নম্বরে ব্লুটিক এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র নাম না লেখা থাকলে তাতে ম্যাসেজ না করার পরামর্শ দিয়েছে এনটিএ।
ছুটি বাতিল
পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ করেছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনও। ২০ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজে কোনও ছুটি থাকছে না। পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন কোনও কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। তা ছাড়াও মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলির উপর পরীক্ষার সময় কড়া নজরদারি থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, নকল করা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য ক্ষেত্রে মেডিক্যাল পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার সময় ছুটি থাকলে পড়ুয়াদের উপর নজর দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সব দিক বিবেচনা করেই পরীক্ষার দিন ছুটি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনএমসি। এর আগেও ৩ মে-এর পরীক্ষার দিনও ছুটি বাতিল করা হয়েছিল মেডিক্যালের পড়ুয়াদের।
সাইবার নজরদারি
সুরক্ষিত ভাবে পরীক্ষা আয়োজনে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য সাইবার দুনিয়াতেও নজরদারি চালাতে চায় কেন্দ্র। প্রশ্নফাঁস কিংবা নম্বর পাইয়ে দেওয়ার মতো বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে দ্রুত তা খতিয়ে দেখছে সাইবার সুরক্ষা বিভাগ। পাশাপাশি, পরীক্ষার্থীদের কাছে সরাসরি এমন কোনও প্রস্তাব এলে বা পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে অপরাধমূলক ঘটনার সাক্ষী হলে তাঁরা নিজেরাও সরকারি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।