Advertisement
E-Paper

রাজ্য জয়েন্টের মেধাতালিকায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ বোর্ডের মাত্র দু’জন! কেন এমনটা?

মেধাতালিকার ১০ জনের মধ্যে ছ’জনই সিবিএসই বোর্ডের পড়ুয়া। দু’জন কাউন্সিল ফর দি ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টফিকেট এগজামিনেশন-এর পড়ুয়া এবং দু’জন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পড়ুয়া।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ২১:৩০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা ফল প্রকাশ হয়েছে বৃহস্পতিবার। ফলপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মেধাতালিকায় কে কোথায় স্থান পেয়েছেন তাও প্রকাশ করা হয়েছে। মেধাতালিকায় রাজ্যের বোর্ডের পড়ুয়াদের টেক্কা দিলেন সিবিএসই বোর্ডের পড়ুয়ারা।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের ফলাফলে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পড়ুয়াদের পিছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের পড়ুয়ারা। মেধাতালিকার ১০ জনের মধ্যে ছ’জনই সিবিএসই বোর্ডের পড়ুয়া। দু’জন কাউন্সিল ফর দি ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টফিকেট এগজামিনেশন-এর পড়ুয়া এবং দু’জন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পড়ুয়া।

কিন্তু কেন এমন অবস্থা?

সর্বভারতীয় নানা পরীক্ষাতেও পিছিয়ে পড়ছে সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়ারা, এমনই অভিযোগ শিক্ষা মহলের একাংশের। ব্যতিক্রমী হিসাবে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া দাগ কাটলেও সেই সংখ্যা সীমিত। রাজ্যে স্তরের প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশিকাতেও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষা সংসদের পড়ুয়ারা প্রথম সারিতে জায়গা করতে পারেনি। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে সমালোচনা। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম পালকে প্রশ্ন করলে অবশ্য তিনি জানান, তিনি শুধু জয়েন্টের ফল প্রকাশ করছেন, এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল বলেন, ‘‘আমাদের রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের জয়েন্টের মেধাতালিকায় বেশি পড়ুয়ার নাম না থাকার মূল কারণ, আমাদের রাজ্যের সিলেবাস। অভিভাবক, ছাত্র, শিক্ষক কেউ এই সিলেবাস নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাছাড়া বেশ কয়েক বছর মেধার ভিত্তিতে বিজ্ঞান শাখায় শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রভাবও প্রত্যক্ষ ভাবে পড়েছে।’’

পড়ুয়ারা যাতে জয়েন্টের পরীক্ষা ভাল ভাবে দিতে পারে সে জন্য সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা মহলের সার্বিক উন্নতি করতে চাইলে সারা বছর ধরে নিরন্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এর জন্য উপযুক্ত সরকারি নীতির প্রয়োজন রয়েছে বলেই মত অনেকের। পাঠ্যক্রম এবং স্কুলের পঠন-পাঠনের মান উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ। যদিও শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করা হবে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে নতুন সরকার। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ মেনে শুরু হয়েছে স্নাতকের পাঠ।

মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘আসলে বিদ্যালয়গুলিতে বহুদিন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। শুধু স্কুল বিল্ডিংগুলিতে নীল-সাদা রং করা হয়েছে আর মিনি বিডিও অফিসের মতো নানা প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে কিছু টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিতে সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন বলতে কিছুই হয়নি। ফলে যে সব অভিভাবকদের কিছুটা সম্বল আছে তাঁরা কষ্ট করে হলেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেসরকারি স্কুলে পাঠাচ্ছেন এবং কর্পোরেট কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি করছেন। এছাড়া অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল না থাকা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষনীতি না থাকায় সরকারি স্কুলগুলোর গুণগত মান ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।’’

WBJEE
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy