সরকারি নির্দেশ মেনে রাজ্যের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পালন করতে হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। আগামী ২০ জুন, শনিবার এ জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে রাজ্য জুড়ে। এরই মধ্যে শুক্রবার, ১৯ জুন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস।
সূত্রের খবর, বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসের আশুতোষ শতবার্ষিকী সভাঘরে এই অনুষ্ঠান হবে। উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
দেশভাগের ইতিহাস প্রায় ৭৯ বছরের। ১৯৪৭-এর ২০ জুন অখণ্ড বাংলার বিধানসভায় পাশ হয়েছিল বাংলা ভাগের বিল। সে দিনটিকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রেক্ষিতেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দিবস পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৩ থেকে রাজ্যের লোকভবন থেকে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে। যদিও সে সময় এই দিনটি পালনের বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তে তিনি ১ বৈশাখ, অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল ‘বাংলা দিবস’ পালন করতে শুরু করেছিলেন।
২০২৬ বিধানসভা ভোটে বদলেছে ক্ষমতার সমীকরণ। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি গঠন করেছে সরকার। তাই এ বার পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে মহাসমারোহে। জানা গিয়েছে, ওই দিন রাজ্যে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী এবং আলোচনাসভার মাধ্যমে রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং পরম্পরা তুলে ধরা হবে। পাশাপশি বাংলা ভাগের ইতিহাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতনতা করাও এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
সব জেলার সদর দফতরে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দিবস উদ্যাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সেই সূত্রেই সব জেলার জেলাস্কুল পরিদর্শকদের জানানো হয়েছে যে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট পাঠাতে হবে। এই দিবস উপলক্ষ্যে স্কুলে প্রবন্ধ রচনার প্রতিযোগিতা বা বিতর্ক সভা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এই দিবস পালনে পড়ুয়া, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের যোগদানের ছবিও পাঠাতে হবে স্কুলশিক্ষা দফতরে। পাশাপাশি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ভাবে সকলে মিলে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন ও তার সঙ্গে একটি রিপোর্ট পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ১৯ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসের একদিন আগে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যাপন করছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
যদিও দেশভাগ বিষয়টিকে খুবই সংবেদনশীল বলে মনে করেন শিক্ষকদের একাংশ। অনেকেই মনে করেন, এই দিনটি আনন্দের নয়। বহু মানুষের কাছে বঙ্গ বিভাজন শোকের। সে ক্ষেত্রে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সংযত থাকা দরকার বলে তাঁদের দাবি।