Advertisement
E-Paper

‘গুলশন কলোনি’র জনক পুরী থেকে ধৃত কাউন্সিলর সুশান্ত! আদালতে দাবি রাজ্যের, ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত

সুশান্তকে বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে হাজির করিয়েছিল পুলিশ। তাঁর ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়। আদালত ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ২১:৪২
ওড়িশা থেকে ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ।

ওড়িশা থেকে ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। —ফাইল চিত্র।

প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠাল আদালত। বুধবার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। সুশান্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে সুশান্তকে ‘গুলশন কলোনির জনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুশান্তকে বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে হাজির করিয়েছিল পুলিশ। তাঁর ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়। সরকার পক্ষের আইনজীবী জানান, কসবা এলাকাকে বার বার অশান্ত করে তুলেছেন এই সুশান্ত। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলা, জমি দখলের মতো অভিযোগ রয়েছে। এই সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়তেই সুশান্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, আদালতে জানায় রাজ্য। সায়েন্স সিটির নিকটবর্তী গুলশন কলোনির নাম এর আগে বিভিন্ন গোলমাল, বেআইনি নির্মাণের মতো ঘটনায় শিরোনামে উঠে এসেছিল। রাজ্যের আইনজীবী দাবি করেন, সেই গুলশন কলোনির ‘জনক’ সুশান্ত। হকারদের কাছ থেকে স্টলের নাম করে তিনি টাকা তুলেছেন। অন্তত ৯৫০ জনের কাছ থেকে স্টল দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি জায়গাকেও অন্যের জায়গা দেখিয়ে টাকা তুলেছেন সুশান্তেরা।

কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন সুশান্ত। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর গত মাসেই সুশান্ত ১২ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে কাউন্সিলর পদে তখনও ইস্তফা দেননি। পরে কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ডই ভেঙে দেওয়া হয়। ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে হকারদের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগে আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন হকার্স কমিটির কয়েক জন। পুলিশ সূত্রে খবর, সুশান্তের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় মোট চারটি অভিযোগ দায়ের হয়। তার পরেই কাউন্সিলর গা-ঢাকা দিয়েছিলেন।

অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়েরের খবর পেয়েই পালিয়ে গিয়েছিলেন সুশান্ত। ওড়িশা পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে ধাওয়া করে। কিন্তু ভিন্‌রাজ্যের রাস্তায় গাড়ি ফেলে তিনি উধাও হন। সুশান্তের গাড়ি থেকে কেবল ধরা পড়েছিলেন তাঁর চালক সুজিত চৌধুরী। তার পর থেকে সুশান্তের খোঁজে তল্লাশি আরও জোরদার করেছিলেন আধিকারিকেরা। শেষে বুধবার পুরীর গোপন ঠিকানা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।

সূত্রের খবর, পুলিশি তদন্তে সুশান্তের নামে একাধিক সম্পত্তির হদিস পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, বেনামেও বহু সম্পত্তি রয়েছে সুশান্তের। এলাকায় তাঁর দাপট ছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁর সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তির মূল্য কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছোতে পারে। সুশান্তকে হেফাজতে নিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতে চায় পুলিশ। বিচারক জানিয়েছেন, আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত সুশান্তকে পুলিশি হেফাজতে থাকতে হবে।

Sushanta Ghosh TMC police custody Alipore Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy