WBState_Assembly_Elections_Lead0_02-05-26

আবাসনে ভোটদানে উৎসাহ কিসের ইঙ্গিত, চলছে চর্চা

এন্টালি কেন্দ্রের ‘অ্যাকটিভ একর’ ও ‘সিলভার স্প্রিং’ নামে দু’টি আবাসনে এ বারই প্রথম বুথ হয়েছিল। ‘অ্যাকটিভ একর’-এ ৬২৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন। ‘সিলভার স্প্রিং’-এ ৫৬৯ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৮৮ জন।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ০৬:৩৯

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কোথায় পড়েছে কলকাতার আবাসনগুলির অধিকাংশ বাসিন্দার ভোট? কাল, সোমবার সব প্রশ্নের জবাব মিলবে। তবে, তার ৪৮ ঘণ্টা আগে চর্চা চলল শহরের ১১টি কেন্দ্রে আবাসনের ভোট কোন দিকে গেল, তা নিয়ে। যে সব বড় আবাসনে শুধুমাত্র সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য এ বার ‌বুথ খোলা হয়েছিল, সেই সব আবাসনে বিপুলসংখ্যায় ভোট পড়েছে। তবে, তার বাইরে অন্য আবাসনের বাসিন্দারাও এ বার সকাল থেকে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। যে ছবি শহরে বিশেষ চোখে পড়ে না।

এন্টালি কেন্দ্রের ‘অ্যাকটিভ একর’ ও ‘সিলভার স্প্রিং’ নামে দু’টি আবাসনে এ বারই প্রথম বুথ হয়েছিল। ‘অ্যাকটিভ একর’-এ ৬২৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন। ‘সিলভার স্প্রিং’-এ ৫৬৯ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৮৮ জন। দু’টি আবাসনে যথাক্রমে ৮৫ ও ৮৫.৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। কলকাতা, সল্টলেক, লেক টাউন, নিউ টাউন কিংবা শহরতলির গড়িয়া, মধ্যমগ্রাম, বারাসতের মতো জায়গায় এখন বহুতল আবাসনের রমরমা। সিংহভাগ আবাসনেই ধনী অবাঙালি বাসিন্দাদের আধিক্য। বিধানসভা ভোট নিয়ে এই জাতীয় আবাসনের বাসিন্দারা ততটা উৎসাহী নন বলে অতীতে বহু বার হতাশা প্রকাশ করেছে তৃণমূল, সিপিএম। বরং লোকসভা ভোটে ওই সব আবাসনের বাসিন্দারা ভোটদানে আগ্রহী থাকেন।

কিন্তু ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ব্যতিক্রম। রাসবিহারী কেন্দ্রে দেশপ্রাণ শাসমল রোডের ‘আশা অ্যাপার্টমেন্ট’-এ প্রথম বার বুথ হওয়ার পরে ৩৩১ জন ভোটারের মধ্যে ২৭১ জন ভোট দিয়েছেন। ৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। আবার নিউ টাউনের ‘বলাকা’, ‘ইউনি ওয়ার্ল্ড’, ‘সাপুরজি’, ‘ইউটিলিটি বিল্ডিং’-এর মতো বড় আবাসনগুলিতে প্রায় ৮৭ শতাংশ করে ভোট পড়েছে। লেক টাউনের ‘ব্রিজ ধাম’, ‘অবনী অক্সফোর্ড’ বা ‘তুলসীরাম কমপ্লেক্স’-এর মতো আবাসনেও ভোটদানের হার বিপুল।

যে সব জায়গায় ভোটারদের বুথেই পাওয়া যেত না, সেই সব জায়গায় এমন উচ্চ হারে ভোটদান নিয়ে চর্চা চলছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘শহরের আবাসনে ভোটকেন্দ্রের অভিজ্ঞতা ভাল। মানুষ শান্তিতে ভোট দিয়েছেন। শুরুতে যাঁরা আবাসনে বুথ তৈরিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন, তাঁরা এখন ভাবছেন, তখনই এ বিষয়ে সায় দিলে ভাল হত।’’ পঞ্চায়েত ভোটে নিউ টাউনে স্থানীয় মানুষ ভোট দিতে পারেননি দুষ্কৃতীদের দাপাদাপিতে। ‘ইউটিলিটি বিল্ডিং’-এর এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘এ বার নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়া গিয়েছে। তা ছাড়া, এ বার মানুষ বেশি করে ভোট দিয়েছেন, যে হেতু এসআইআর হয়েছে। যে কারণে এ বার সর্বত্রই ভোটদানের হার বেশি।’’

তৃণমূল এবং বিজেপি, দু’টি দলই দাবি করেছে, এই বিপুল জনাদেশ গিয়েছে তাদের পক্ষে। তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটা কেন্দ্রের প্রার্থী কুণাল ঘোষের দাবি, ‘‘আবাসনের বাসিন্দাদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে এ বার আমরা তাঁদের সঙ্গে একাধিক বার বৈঠক করেছি। এসআইআরের ফর্ম পূরণ করতে আমরাই তাঁদের সাহায্য করেছি। যে কারণে এ বার তাঁরা সবাই নিজেদের নাগরিকত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে বিপুল সংখ্যায় ভোটদানে অংশ নিয়েছেন। আমি নিশ্চিত, রাজ্যের স্থিতাবস্থা ও উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আবাসনের বাসিন্দারা আমাদেরই ভোট দিয়েছেন।’’

যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, আবাসনের ভোট গণতন্ত্র পুনর্বহাল করার ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ‘‘আবাসনের বাঙালি ও অবাঙালি, সব ধরনের ভোটই আমাদের দিকে এসেছে। বাঙালিরা বিজেপিকে ভোট দিয়ে পুরনো প্রবাদ ভুল প্রতিপন্ন করেছেন। শুধু সোমবার অবধি অপেক্ষা করতে হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Residential complex Polling Booth

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy