ছোটপর্দার অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া বিনোদনজগতে। জানা যাচ্ছে, গত কয়েক মাস ধরেই নাকি অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। উঠে এসেছে সঞ্চিতার প্রাক্তন প্রেমিক উজ্জ্বল শর্মার কথাও। এর মধ্যেই সঞ্চিতার বন্ধু গীতাঞ্জলি মঙ্গলের দাবি, কয়েক মাস আগেও নাকি নিজের ক্ষতি করার কথা বলেছিলেন সঞ্চিতা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে সঞ্চিতার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। প্রয়াত অভিনেত্রী নাকি গত জানুয়ারি মাস থেকে চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে যা-ই চলুক, পেশাগত জায়গায় কোনও খামতি ছিল না সঞ্চিতার। অভিনয়ের কাজ নাকি মন দিয়ে জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। হাতে ছিল বেশ কিছু আসন্ন কাজও। আর্থিক বা পেশাগত দিক থেকে কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি তাঁকে, জানিয়েছেন গীতাঞ্জলি। সঞ্চিতাই তাঁর পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
আর্থিক ও পেশাগত জীবন মসৃণ চললেও ব্যক্তিগত জীবনে নাকি সুখী ছিলেন না অভিনেত্রী। প্রায়ই নাকি মনখারাপের কথা জানাতেন বন্ধুকে। সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি বলেছেন, “আমার কাছে এখনও একটি মেসেজ রয়েছে। ও আমাকে বলত, ‘এই জীবন আমি চাই না। কঠিন হয়ে উঠছে এই জীবন। আর পারা যাচ্ছে না। কেন এই জীবন চালিয়ে যেতে হবে?’ ও আমাকে এই ধরনের প্রশ্ন করতে শুরু করেছিল।”
বারবার সঞ্চিতাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন গীতাঞ্জলি। বন্ধু যাতে কোনও চরম পদক্ষেপ না করেন, সেই নিয়ে তিনিও নাকি চিন্তায় থাকতেন। গীতাঞ্জলির কথায়, “ও এমনই ছিল। ও এটাও বলেছিল, ‘আমি নায়িকা হব এবং সুশান্তের মৃত্যুদিনেই আমি চলে যাব। তা হলে মানুষ আমাকে মনে রাখবে।’ এই ধরনের কথাবার্তা বলার মতো মানুষ ছিল ও।”
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যমে ওর বয়সি মেয়েরা কী কী করছে, এ সব দেখে প্রভাবিত হয়েছিলেন সঞ্চিতা, এমনও মনে করছেন গীতাঞ্জলি। মুখ খুলেছেন সঞ্চিতার বাবা মছিন্দ্র উগলেও। তাঁর দাবি, গত কয়েক দিন ধরে অসম্ভব মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন সঞ্চিতা। তাঁকে নাকি হেনস্থাও করা হচ্ছিল।
অভিনেত্রীর বাবার কথায়, “ও মনমরা হয়ে থাকত। কিন্তু কোনও কারণ আমাদের জানায়নি। তবে বুঝতাম, ওর মন ভাল নেই। মেজাজ ভাল থাকলেও, হঠাৎ যেন অবসাদে চলে যেত। আমরা লক্ষ করেছিলাম বিষয়টা। তাই আমরা ওর সঙ্গে সঙ্গে থাকার চেষ্টা করতাম। কিন্তু ওই দিন অল্প সময়ের জন্য আমরা ছিলাম না। মাত্র আধ ঘণ্টা আমরা থাকতে পারিনি। সেটাই আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু আমরা জানতাম না, ও এত গভীর অবসাদে চলে গিয়েছে যে, এত বড় পদক্ষেপ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। মনে হয়, ওকে কেউ চাপ দিচ্ছিল। টাকা পয়সা নিয়ে কেউ ওকে বিরক্ত করছিল। সমানে ওকে হেনস্থা করছিল কেউ। সত্য প্রকাশ্যে আসবেই। কিন্তু আমি নিশ্চিত, ওকে কেউ হেনস্থা করছিল। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমার মেয়ে যেন বিচার পায়।”