Advertisement
E-Paper

এমসিকিউ পদ্ধতিতে কি কলা এবং সমাজবিজ্ঞানের বিষয়গুলির মূল্যায়ন সম্ভব? প্রশ্ন কুয়েট ইউজি নিয়ে

কেন্দ্রের শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া বিষয়ক লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি-র তরফে কমন ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন টেস্ট ফর আন্ডার গ্র্যাজুয়েটস-এর (কুয়েট ইউজি) মাধ্যমে সব বিষয়ের পড়ুয়াদের মেধার মূল্যায়ন সম্ভব কি না, তা পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১৫:৫১

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কলা বা সমাজবিজ্ঞান শাখার বিষয়গুলির মূল্যায়ন এমসিকিউ পদ্ধতিতে কী ভাবে সম্ভব? কুয়েট ইউজি-র পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলল কেন্দ্রের শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া বিষয়ক লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি। একটি বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনাও করেছেন কমিটির সদস্যেরা।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী কুয়েট ইউজি-র প্রশ্নপত্র এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছে লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি। স্নাতকে ভর্তির সার্বিক প্রবেশিকা হিসাবে কুয়েট ইউজি-র আয়োজন নিয়ে কমিটির কয়েকজন সদস্য সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনকে জানানো হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওই প্রতিবেদনে কমিটি জানিয়েছে, সার্বিক ভাবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া কুয়েট ইউজি-র মাধ্যমে সব বিষয়ের মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে কলা এবং সমাজবিজ্ঞান শাখার বিষয়গুলির জন্য যে মাল্টিপল চয়েজ কোয়েশ্চন (এমসিকিউ) প্রশ্ন করা হয়, তাতে পরীক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক মেধা কী ভাবে যাচাই করা হচ্ছে? কারণ নতুন ব্যবস্থায় ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন কিংবা সাহিত্যের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে এক কথায় উত্তর লিখতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। তাতে তাঁদের ব্যাখ্যা দেওয়া বা মতামত দেওয়ার দক্ষতা যাচাই করা সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্ট প্রবেশিকা কী ভাবে নিতে পারলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে এবং তাতে প্রশ্নের মানোন্নয়ন কী ভাবে সম্ভব— তা পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছে লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি। কমিটির নেতৃত্বে থাকা কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিংহ স্নাতকে ভর্তি হওয়ার সার্বিক প্রবেশিকার সুবিধার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনে আরও একটি পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি হওয়া গেলেও, তাতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা পূরণ হতে সমস্যা হচ্ছে। এর ব্যাখ্যায় কংগ্রেস সাংসদ জানিয়েছেন, এর আগে জেএনইউ-এর নিজস্ব প্রবেশিকার মাধ্যমে সামাজিক-অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, এমন পড়ুয়াদের মেধার নিরিখে বেছে নেওয়া হত। কুয়েট ইউজি চালু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সেই মানদণ্ড পূরণ হচ্ছে না।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্র কমিটির পর্যবেক্ষণগুলি খতিয়ে দেখতে চলেছে। কমিটি যে সব বিষয়ে পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-কে (এনটিএ) জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫-এ কুয়েট ইউজি-র জন্য আবেদন করেছিলেন ১৩ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৯৯ জন। ২০২২-এর পর ওই পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন করেছিল এনটিএ। তবে, লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি-র তরফে এও বলা হয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার এখনই কোনও পরিবর্তন করতে হবে না। শুধুমাত্র সার্বিক ভাবে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার জন্য এই প্রবেশিকাই যথেষ্ট কিনা, তা বিবেচনা করা হোক। .

National Testing Agency Exam System
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy