প্রয়াত ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকের অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলে। শোকের ছায়া মুম্বইয়ের ছোটপর্দার জগতে। ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দাতেও কাজ করেছেন তিনি। সঞ্চিতার মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিনেত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সঞ্চিতার ভাই।
অভিনয়ের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের মধ্যে প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের জন্যও পরিচিত ছিলেন সঞ্চিতা। সমাজমাধ্যমে নিয়মিত নিজের জীবনের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিতেন তিনি। তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে একটি হাসিখুশি রিল দেখা গিয়েছিল, যেখানে তাঁকে একটি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে নাচতে দেখা যায়। তাঁর মৃত্যুর পর সেই ভিডিয়ো দেখেই অনুরাগীরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন।
২০২৫ সালে নেটপ্রভাবী মিশা অগ্রবালের মৃত্যুর খবরের পর মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছিলেন সঞ্চিতা। তিনি বলেছিলেন “আমি ভেঙে পড়েছি এটা দেখে যে, কী সহজে তরুণেরা নিজেদের জীবন শেষ করার কথা ভাবছে।” কিন্তু গত জানুয়ারি মাস থেকে নাকি সঞ্চিতা নিজেও অবসাদে ভুগছিলেন। প্রথমে খবর ছড়ায়, অভিনেত্রীর বয়স ৩০। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বয়স মাত্র ২২। পুলিশের তরফ থেকেই জানানো হয়েছে, সঞ্চিতাকে ১৪ জুন নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, সঞ্চিতা নিজের ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে জানান। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে।
সঞ্চিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ জুন অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। এ দিকে, সঞ্চিতার সহ-অভিনেত্রী মেঘা শর্মা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সঞ্চিতা জানুয়ারি মাস থেকে অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে মেঘা বলেন, “আমি গভীর ভাবে শোকাহত। কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। যত দূর শুনেছি, ও আত্মঘাতী হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সঞ্চিতার কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল এবং তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মেঘা জানান, মাত্র ১০ দিন আগে তাঁদের দেখা হয়েছিল। এমনকি, একটি অডিশনে সঞ্চিতার সঙ্গে গিয়েছিলেন তিনি। মেঘার দাবি, সেই সময়ে সঞ্চিতা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। তিনি বলেন, “ও খুব প্রাণবন্ত মেয়ে ছিল। ১০ দিন আগেও আমি ওকে একটি অডিশনে নিয়ে গিয়েছিলাম। ও বিশ্বাস করত যে ও সফল হতে পারবে। পরে ওর ফোন বন্ধ হয়ে যায়।”
মেঘা আরও জানান, এর আগেও সঞ্চিতা কখনও কখনও নিজের জীবন শেষ করার কথা বলতেন। তিনি বলেন, “ও প্রায়ই বলত যে ও জীবন শেষ করে দেবে। আমরা সবাই ওকে ইতিবাচক থাকতে বলতাম এবং এমন নেতিবাচক চিন্তা না করতে বোঝাতাম।”
অন্য দিকে, সঞ্চিতার ভাই অবিনাশ তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সঞ্চিতা তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতকে উৎসর্গ করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যু হয়েছিল। অবিনাশের দাবি, সঞ্চিতাও একই তারিখ বেছে নিয়েছিলেন এবং সেই সময়ে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।
অবিনাশ অভিযোগ করেছেন, বিনোদনজগতের চাপ, কাজের অভাব এবং ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে বার বার অপমানের কারণেই সঞ্চিতা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এই ইন্ডাস্ট্রি খুব নোংরা ও বিষাক্ত।” তবে সঞ্চিতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্তের পরই আসল কারণ জানা যাবে।