মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের নাম দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কংগ্রেস প্রার্থী কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে যে কোনও একটি ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। আদালতের অনুরোধ, নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় কংগ্রেস প্রার্থীর আবেদনটি যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করে ট্রাইবুনাল। মনোনয়ন জমা দিতে না পেরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব।
সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম দাবি করেন, ‘‘২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু এখনও ট্রাইবুনালে আবেদন করা যাচ্ছে না। সকাল থেকে ট্রাইবুনালের বাইরে আমরা অপেক্ষা করছি। অনেক মানুষ সেখানে অপেক্ষা করছেন। মূল দরজা বন্ধ করে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’’
বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে। কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি জানান, ট্রাইবুনালে প্রশিক্ষণ চলছিল। তবে বৃহস্পতিবার থেকেই কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। অন্য দিকে, কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছেন, কংগ্রেস প্রার্থী ট্রাইবুনালে আবেদন করুন। কমিশন তাঁকে সাহায্য করবে। তাঁর বক্তব্য সঠিক হলে বিষয়টি খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এর পরই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কমিশনের আইনজীবীকে বলেন, ‘‘আগামী ৬ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি। তার আগে যেন পিটিশনারের আপিলটি নিষ্পত্তি হয়ে যায় সেটা দেখবেন। পিটিশনারের কাছে পাসপোর্ট রয়েছে— সেটিও দয়া করে খতিয়ে দেখুন।’’
আদালতকে কমিশন আশ্বস্ত করেছেন যে, এই বিষয়ে কংগ্রেস প্রার্থীকে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে। কমিশনের আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘‘আমরা অবশ্যই সব রকম সহযোগিতা করব। পিটিশনার নিজেই স্বীকার করেছেন তাঁর নামে কিছু অমিল রয়েছে।’’ আদালতকে কমিশনের আইনজীবী পাল্টা অনুরোধ করেন, একটি ট্রাইবুনাল বেঞ্চ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হোক যেখানে জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম না ওঠায় সেই জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহতাব। তবে হাই কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের অধীনস্থ। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, হাই কোর্ট এ নিয়ে শুনানি করতে পারে না। প্রধান বিচারপতি এ-ও জানান, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে এসআইআর সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়গুলিতেই তদারকি করছে উচ্চ আদালত। তার পর আবেদনকারীকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত