Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘বহিরাগত’ ধরতে বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দৌড় শুভেন্দুর, বিরোধী দলনেতাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ তৃণমূলের, স্লোগানযুদ্ধ

শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়েছে তৃণমূল। ‘বহিরাগতদের’ ধরতে বাহিনীর সঙ্গে দৌড়োতে দেখা যায় শুভেন্দুকেও। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৮
‘বহিরাগত’ ধরতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে দৌড় শুভেন্দু অধিকারীর। বুধবার সকালে কালীঘাটে।

‘বহিরাগত’ ধরতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে দৌড় শুভেন্দু অধিকারীর। বুধবার সকালে কালীঘাটে। ছবি: সংগৃহীত।

ভবানীপুরে উত্তেজনা। ভোট পরিদর্শনে কালীঘাট চত্বরে পৌঁছোতেই শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফোনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকেন শুভেন্দু। তার পরেই ঘটনাস্থলে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়েছে তৃণমূল। ‘বহিরাগতদের’ ধরতে বাহিনীর সঙ্গে দৌড়োতে দেখা যায় শুভেন্দুকেও। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু।

বুধবার সাড়ে ১২টা নাগাদ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মুক্তদল মোড় এলাকায় শুভেন্দুর গাড়ি পৌঁছোতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকেরা। শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। শুভেন্দু গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে যান। তার পর ফের গাড়িতে উঠে চলে যান কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায়। সেখানে তৃণমূল কর্মীরা শুভেন্দুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকলে বিজেপি কর্মীরা পাল্টা ‘পিসি চোর-ভাইপো চোর’ স্লোগান দেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় ঢোকার পর জওয়ানদের নিয়ে ঢোকেন শুভেন্দু। বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ তথা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুকে দেখে দলীয় কার্যালয় থেকে কর্মীদের স্লোগান দিতে বলেন। তার পরেই দু’পক্ষের মধ্যে স্লোগানযুদ্ধ শুরু হয়।

গাড়ি থেকেই নির্বাচন কমিশনে ফোন করেন শুভেন্দু। ফোনে তিনি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর আর্জি জানান। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা এসে লাঠিচার্জ শুরু করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তার পর পটুয়াপাড়ায় ঢোকেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতা তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, “এ সব যত করবে, তত আমার ভোট বাড়বে। ভবানীপুর ভদ্রলোকেদের জায়গা। এখানে এ সব করে লাভ নেই।” পাল্টা কাজরী বলেন, “এখানে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট চলছিল। উনি অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন। ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তাই এলাকার মা-বোনেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে।”

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Suvendu Adhikari Bhawanipore
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy