বাদ পড়াদের কত ফিরছেন তালিকায়, রইল ঘোর সংশয়

তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকাবদ্ধ হওয়া উচিত কি না, তা প্রাথমিক পর্বে যাচাই করেছেন জেলাভিত্তিক বিচারকেরা। তাতে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৭

—প্রতীকী চিত্র।

প্রথম দফার ভোটের ১৫২টি আসনের জন্য মঙ্গলবার শেষ হল প্রচার পর্ব। এ দিন সন্ধ্যা ছ’টা থেকে ২৩ এপ্রিল ভোট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’। অন্য দিকে, এ দিন পর্যন্তই বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের কারও যোগ্যতা প্রমাণিত হলে, তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, এ দিন মধ্যরাত পর্যন্ত সেই কাজ চলবে। আজ, বুধবার কত নাম গ্রাহ্য হচ্ছে, বিচারপতিরা তা জানালে সেই নামগুলি যুক্ত হবে অতিরিক্ত তালিকায়। তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।

তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকাবদ্ধ হওয়া উচিত কি না, তা প্রাথমিক পর্বে যাচাই করেছেন জেলাভিত্তিক বিচারকেরা। তাতে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল। তাঁদের একাংশ আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালের কাছে। কিন্তু ট্রাইবুনালে কি পুরোদমে কাজ হচ্ছে? সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সেই ব্যাপারেই ফের অভিযোগ জানানো হয়। জানানো হয়, কলকাতায় ট্রাইবুনাল এখনও কাজই শুরু করেনি। সেই অভিযোগ পেয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে রিপোর্ট চাওয়া হবে।

প্রথম দফা ভোটের জন্য ট্রাইবুনালের কাছে ছাড়পত্র পেয়ে ভোটার তালিকায় নাম সময় মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে। তার মধ্যে ঠিক কত জনকে ছাড়পত্র দিল ট্রাইবুনাল? কমিশন সূত্রের বক্তব্য, এ দিন রাত পর্যন্ত যাচাইয়ের কাজ হবে। তার পরে বিচারপতিদের থেকে যে তথ্য কমিশন পাবে, তা তালিকাভুক্ত করা হবে। সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রার্থী-সহ ভোট-আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে যায়। এ বারও তা হয়েছে। যদি অতিরিক্ত কিছু নাম ট্রাইবুনাল ছাড় দেয়, তবে তা অতিরিক্ত তালিকাবদ্ধ হয়ে আজ, বুধবার সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এ দিনও জোকায় ট্রাইবুনালের অফিস ছিল নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ছিল। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন। ট্রাইবুনালের ঢোকার মুখে পুলিশ কিয়স্কে বসে থাকা আধিকারিকেরা তাঁদের কথা শুনেছেন। বেশিরভাগই কথা বলে ফিরে যাচ্ছেন। কারণ, অফিসের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না তাঁদের।

পূর্ব বর্ধমান থেকে এসেছিলেন বছর চল্লিশের হাসান খান। হাসানের কথায়, ‘‘ভোটার তালিকায় আমার, ভাই সাদ্দাম হোসেন খান, বোন রোজিনা খাতুনের নাম বাদ গিয়েছে। অথচ আমার মা-বাবার নাম আছে। ২০০২ সালের এসআইআর অনুযায়ী আমাদের সবার নাম ঠিকঠাক ছিল। নাম ফিরে পেতে অনলাইনে আবেদন করেছি আগেই। জেলা প্রশাসন থেকে সদুত্তর না পেয়ে এখানে আসা।’’ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাতগাছিয়ার বাসিন্দা সফিকুল রহমান মোল্লার কথায়, ‘‘আমার এখানেই জন্ম। এত বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছি। আমাদের বাপ-ঠাকুর্দার সাতগাছিয়াতেই বসবাস। অথচ নাম বাদ গেল। কিন্তু এখানে বলছে, বাড়িতে কাগজ গেলে তবেই শুনানি শুরু হবে। এ বারে ভোটটা আর দেওয়া হল না।’’

হাওড়ার সাঁকরাইলের বছর বাহান্নের গৃহবধূ জইনুন নাহের মোল্লা বলেন, ‘‘ভোটার তালিকায় আমার স্বামীর নাম আছে। আমার নাম বাদ গেল। এত বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছি। নাম তোলার আবেদন করলেও জেলাশাসক অফিস, বিএলও-রা সদুত্তর দিতে পারছেন না। জেলাশাসক অফিস থেকে ট্রাইবুনালে যেতে বলল। অথচ এখানকার পুলিশকর্মীরা জানালেন, ট্রাইবুনাল থেকে বাড়িতে চিঠি গেলে শুনানির জন্য আসতে হবে।’’ দক্ষিণ কলকাতার বেকবাগানের বাসিন্দা আশি বছরের মহম্মদ খালিদের ভাইপো মহম্মদ নাসির বলেন, ‘‘আমার চাচা বয়সের ভারে হাঁটাচলা করতে পারেন না। ওঁর হয়ে আমি এসেছি।’’

পাশাপাশি, কমিশন জানিয়েছে প্রতি বারের মতো এ বারও থানার আইসি-ওসি-রা শংসাপত্র দিয়ে জানাবেন, তাঁদের এলাকায় কোনও বহিরাগত নেই। এ দিন দাঁতন বিধানসভা এলাকায় অশান্তির জেরে ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্য দিকে পাঁচলায় বেআইনি মদ উদ্ধার করেছে আবগারি দফতর।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy