ভোটের মুখে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর দৌড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল! কেরলের সদ্য সমাপ্ত ভোটের তথ্য সামনে ‘না-আসা’ ও ২০২৪-এ হওয়া অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ‘অস্বাভাবিক’ ভোট-দানের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গেও যাতে না-হয়, সেই দাবিতে বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। উল্টো দিকে, ইভিএম ও ভিভিপ্যাট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে এ দিনই কমিশনে গিয়েছিল বিজেপি-ও। পাশাপাশি, সিপিএম, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের একটি গণসংগঠনও নানা অভিযোগ তুলেছে।
তৃণমূলের তরফে রাজ্যের দুই মন্ত্রী শশী পাঁজা, অরূপ বিশ্বাস, দলের সাংসদ নাদিমুল হকেরা কমিশনে গিয়েছিলেন। শশী বলেছেন, “কেরলে ৯ তারিখ ভোট হয়ে গেলেও, কোথায় কত ভোট পড়েছে, তা ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে না।” অরূপের দাবি, “অন্ধ্রপ্রদেশে ভোটের দিন রাত ৮টা থেকে ২টো পর্যন্ত ৫২ লক্ষ ভোট পড়েছিল, যা অস্বাভাবিক। একটা সময়ে প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছিল, যা অসম্ভব। আমরা কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকতে এবং ইভিএমে যাতে গোলমাল না-হয়, তা দেখতে বলেছি।”
এই প্রেক্ষিতে সিইও-দরবারে গিয়ে বিজেপির সাংসদ মহেশ শর্মা, রাজ্যের নেতা শিশির বাজোরিয়ার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভা থেকে ইভিএম, ভিপিপ্যাট নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করছেন, যার ফলে ভোট-প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ছে। এটা বিধি-ভঙ্গের শামিল। পাশাপাশি, বুধবার বালিতে প্রচার চলাকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ‘বাধা’, আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং তৃণমূল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ভুয়ো ছবি, ভিডিয়ো বানিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে বলেও বিজেপির অভিযোগ। তাদের আরও আশঙ্কা, পোস্টাল ব্যালটে ভোটের সময় তৃণমূল অনিয়ম করতে পারে।
এরই মধ্যে, পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে বিজেপি নেতা-কর্মীরা স্থানীয় ক্লাব ও ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করতে চাইছেন বলে তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে। বিজেপি অভিযোগ মানেনি।
পাশাপাশি,তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে যথাক্রমে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে দলের প্রার্থীদের উপরে হামলা চালানো হয়েছে জানিয়ে সিইও-র কাছে অভিযোগ করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী। অভিযোগ তোলা হয়েছে, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তারও। এসআইআর-প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে এই নিয়ে পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়ে কমিশনে ই-মেল করেছে লিবারেশনের গণসংগঠন সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)