Advertisement
E-Paper

মেসির মূর্তি সরানো হল লেকটাউন থেকে! আপাতত থাকবে পিডব্লিউডির তত্ত্বাবধানে, বিকল্প স্থান এখনও স্পষ্ট নয়

সরানোর সময় মূর্তির যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই নির্দেশ মেনেই কাজ হয়েছে বলে জানান পিডব্লিউডির ইঞ্জিনিয়ার।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১৩:৩১
সরানোর পরে ট্রাকে শায়িত লিয়োনেল মেসির মূর্তি।

সরানোর পরে ট্রাকে শায়িত লিয়োনেল মেসির মূর্তি। — সুদীপ্তা চৌধুরী সরকার

লেকটাউন থেকে অবশেষে সরিয়ে ফেলা হল ৭০ ফুট উঁচু লিয়োনেল মেসির মূর্তি। সোমবার দুপুরে পাটাতন থেকে নামিয়ে হাইড্রলিক ক্রেনের মাধ্যমে মূর্তিটি ট্রাকে তুলেছে পিডব্লিউডি (পূর্ত দফতর)। আপাতত তাদের তত্ত্বাবধানেই রাখা হবে সেটি। তবে কোথায় রাখা হবে, তা রাজ্য সরকার বা পূর্ত দফতরের তরফে জানানো হয়নি। অসমর্থিত সূত্র বলছে, রবীন্দ্র সরোবর বা ইকো পার্কে রাখা হতে পারে মূর্তি। তবে সেই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।

পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মূর্তিটি পাটাতন থেকে সরিয়ে প্রথমে রাস্তায় নামানো হয়, তার পরে ট্রাকে তোলা হয়। মূর্তি তোলার জন্য হাইড্রলিক ক্রেন আনা হয়েছিল। পূর্ত দফতরের ডেপুটি প্রোজেক্ট ম্যানেজার সূর্যকান্ত গিরি জানান, পাটাতন লোহার কাঠামোতে স্ক্রু দিয়ে বসানো ছিল। সেই স্ক্রু খুলে মূর্তি কাঠামো থেকে সরানো হয়েছে। কোনও সমস্যা হয়নি। সরানোর সময় মূর্তির যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই নির্দেশ মেনেই কাজ হয়েছে বলে জানান পিডব্লিউডির ওই ইঞ্জিনিয়ার।

দিন কয়েক আগে লেকটাউন থানায় খবর যায়, ঝড়ের প্রকোপে মেসির মূর্তি দুলছে। পথচলতি মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে বিষয়টি দেখেন। তাঁরাই খবর দেন লেকটাউন থানায়। পুলিশও খবর দেয় পূর্ত দফতরে। পরে পুলিশ এবং পূর্ত দফতরের কর্মীরা লেকটাউনে গিয়ে ওই মূর্তি খতিয়ে দেখেন।

পূর্ত দফতরের ঠিকাদার প্রবীর পালও যান লেকটাউনে। তাঁর দাবি, মূর্তির ‘ফাউন্ডেশন বোল্ট’-এ গোলমাল রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাঁরা ইতিমধ্যে বিষয়টি জানিয়েছেন। ঠিকাদারের দাবি, মূর্তিটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। যে কোনও সময়ে তা পড়ে যেতে পারে। তাই ওই এলাকা থেকে মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়া উচিত বলেই মনে করছেন তিনি।

ভিআইপি রোড পারাপারের জন্য লেকটাউনের যে এলাকায় ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি হয়েছে, তার উপরের অংশে বসানো ছিল মেসির মূর্তি। গত বছরের ডিসেম্বরের মেসির কলকাতা সফরের সময়ে এই মূর্তির উন্মোচন হয়। আর্জেন্টিনীয় ফুটবল তারকা নিজে হাতে রিমোটের বোতাম টিপে মূর্তি উন্মোচন করেন। মেসির ওই ৭০ ফুট দীর্ঘ মূর্তিটি নিয়ে অতীতে হাই কোর্টে মামলাও হয়। ওই মূর্তি সরকারি জমির উপর বসানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল। ওই মূর্তি বসানোর নেপথ্যে ছিলেন রাজ্যের পূর্বতন সরকারের মন্ত্রী সুজিত বসু। সম্প্রতি পুরনিয়োগ মামলায় সুজিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, মেসির ওই কলকাতা সফরের সময়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মেসিকে দেখতে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সল্টলেক স্টেডিয়ামে যান তাঁর ভক্তেরা। কিন্তু মেসি মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে ছিলেন। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার কারণে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। অভিযোগ, এক মুহূর্তের জন্যেও মেসিকে দেখা যায়নি গ্যালারি থেকে। এর পরেই ক্রোধে উন্মত্ত জনতা তাণ্ডব চালায় স্টেডিয়াম জুড়ে। মাঠে ছোড়া হয় বোতল, ভাঙা চেয়ার। যুবভারতী কাণ্ড নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy