Advertisement
E-Paper

‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণে সোমবার ভবানী ভবনে হাজির হলেন না অভিষেক, চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিলেন সিআইডি-কে

অভিষেকের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণেই ভবানী ভবনে হাজিরা দিচ্ছেন না অভিষেক। ওই সূত্রের দাবি, অভিষেকের ডান দিকের চোয়াল, ঘাড় এবং বুকের আশপাশে এখনও ব্যথা রয়েছে। আপাতত বাড়িতেই রয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১২:৫১
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

সিআইডি-র তলবে সোমবার ভবানী ভবনে হাজিরা দিচ্ছেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল এবং পুলিশ সূত্রে খবর, হাজিরা দিতে না-পারার কারণ জানিয়ে সিআইডি-কে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সই-কাণ্ডের তদন্তে সোমবার দুপুর ১২টায় তাঁকে ভবানী ভবনে তলব করেছিল সিআইডি।

অভিষেকের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণেই ভবানী ভবনে হাজিরা দিচ্ছেন না অভিষেক। ওই সূত্রের দাবি, অভিষেকের ডান দিকের চোয়াল, ঘাড় এবং বুকের আশপাশে এখনও ব্যথা রয়েছে। আপাতত বাড়িতেই রয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিষেক। ওই দিন রাতেই বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেককে। সেখানে চিকিৎসা না-হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে পরে মিন্টো পার্কের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি করানোর মতো গুরুতর শারীরিক পরিস্থিতি নয়। অভিষেককে বাড়িতেই বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কী এই সই-কাণ্ড?

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে প্রাক্তন শাসকদলকে। ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পরে ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সে দিনই দলের প্রস্তাবে বিধায়কেরা হাত তুলে সায় দেন, পরিষদীয় দলের নেতা, উপ দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা ঠিক করুন দলনেত্রী মমতা। তার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। সেই মর্মে দলের তরফে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি।

তার কারণ, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ৬ মে বৈঠক থেকে বেরিয়ে একাধিক বিধায়ক সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, পরিষদীয়দলের নেতা বা অন্যান্য পদাধিকারী কে হবেন, তা ঠিক করার ভার দেওয়া হয়েছে মমতাকে। বিধানসভা অভিষেকের চিঠি প্রত্যাখ্যান করলে ১৯ মে কালীঘাটে ফের যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। একাধিক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, সেই সই তাঁদের করানো হয়েছিল ৬ মে তারিখের কার্যবিবরণীতে। এখানেই মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে খবর।

সই-কাণ্ড নিয়ে তদন্তে নেমে সিআইডি চার জনের বাড়িতে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম।

কিন্তু বাহারুলের সই নিয়ে ‘বিতর্ক’ তৈরি হয়েছে। ১৯ তারিখের বৈঠকে সই করানো হলেও বিধানসভায় জমা পড়া চিঠিটিতে তারিখ রয়েছে ৬ মে। ওই দিন মমতার বাড়ির বৈঠকে বাহারুল হাজির ছিলেন না। বাহারুল বলেছিলেন, ‘‘তদন্ত যখন চলছে, তখন এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশি কিছু বলব না। শুধু এটুকু বলি, তদন্তকারীরা আমার কাছে জানতে চান ৬ মে আমি কোথায় ছিলাম। আমি তাঁদের জানাই, ওই দিন আমি বাড়িতেই (ভাঙড়ে) ছিলাম। ওই দিনের একটি মিটিংয়ের সই আমায় দেখানো হয়। আমি তাঁদের বলি, ওই দিন আমি কোনও মিটিংয়ে যোগ দিইনি। ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে বাড়িতেই ছিলাম।’’

বিষয়টি দলের গোচরেও এনেছেন বলে দাবি করেন বাহারুল। অন্য দিকে, গোটা পরিস্থিতি নিয়ে প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব বলেন, ‘‘আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না এই কারণে, আমরা কাউকে দিয়ে জোর করে সই করাইনি। কে লিখেছে জানি না। তবে বাহারুল ওই সইটি দেখে বলেছেন ওটা ওঁর সই নয়।’’

ওই সই-কাণ্ডের সূত্রেই সোমবার অভিষেককে তলব করেছিল সিআইডি।

TMC CID Bhabani Bhawan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy