পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তদন্তে ডাক পড়েছিল। সেই মতো সোমবার সকালে সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজিরা দিতে এলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি যখন সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছোন, তার ঠিক আগেই লোকভবনে রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়েছে। ইডির দফতরে প্রবেশের আগে বিজেপি সরকারের নতুন শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা জানান রথীন। একই সঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ প্রসঙ্গে জানালেন— কোথায় খামতি, তা বুঝতে পারলে অনেক কিছু হয়ে যেত।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে দৃশ্যত ধসে পড়েছে তৃণমূল। আসন সংখ্যা কমে ৮০-তে নেমে এসেছে। সম্প্রতি তৃণমূল নেতাদের ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও দেখা গিয়েছে। সোনারপুরে আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও আক্রান্ত হন। কেন সাধারণ মানুষের এত ক্ষোভ, কোথায় খামতি রয়ে গেল, তা নিয়ে সোমবার প্রশ্ন করা হয় রথীনকে। জবাবে তিনি বলেন, “সেটা বুঝতে পারলে অনেক কিছু হত। মানুষ চায়নি, তাই...। বিভিন্ন কারণে হয়নি।” যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে চাননি তিনি।
উল্লেখ্য, রবিবার কালীঘাটে তৃণমূলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ৬০ জন বিধায়ক পৌঁছে উঠতে পারেননি মমতার বাড়ির ওই বৈঠকে। ফলে বৈঠক বাতিল করে দিতে হয়। সে প্রসঙ্গে রথীন বলেন, “আমার তো শরীর খারাপ। তাই যেতে পারিনি।” তবে দলের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিকই রয়েছে বলে দাবি রথীনের। সোমবার রাজ্যের নতুন মন্ত্রী হিসাবে যাঁরা শপথ নিয়েছেন, তাঁদেরও শুভেচ্ছা জানান মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক। বিধায়ক হিসাবে বিভিন্ন কাজে নতুন মন্ত্রীদের কাছে সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়েও আশাবাদী তিনি।
এর আগে গত ১৫ মে ইডির তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন। তার পর গত সোমবার (২৫ মে) ওই মামলার তদন্তের সূত্রে তাঁকে তলব করা হয়েছিল। তবে ওই দিন তিনি হাজিরা দেননি। তার পরে সোমবার ফের তলব করা হয় বিধায়ককে। ইডির দফতরে প্রবেশের সময়ে তিনি বলেন, “ডেকেছে, তাই এসেছি। যে নথিগুলো চেয়েছিল, সেগুলো নিয়ে এসেছি।”
ভোটের আগেও পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে একাধিক বার রথীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ততার কারণ জানিয়ে হাজিরা দেননি তিনি।