নেটপ্রভাবী সায়নী চক্রবর্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। মগরার বাসিন্দা সায়নীর মৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এ বার মেয়ের মৃত্যু প্রসঙ্গে মুখ খুললেন সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। কিছুতেই এখনও মেনে নিতে পারছেন না মেয়ের মৃত্যুর কথা।
কী হয়েছিল সায়নীর? প্রশ্নের উত্তরে সায়নীর মা বলেন, “আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। আমার মেয়েকে সবাই চেনে। খুব হাসিখুশি। পশু-পাখি নিয়ে থাকতে ভালবাসত। সদ্য আইন নিয়ে স্নাতক হয়েছে। গত দু’দিনে কী হয়েছে,যতটুকু জানি, তার ভিত্তিতে আমরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। তদন্ত চলছে। আমার মেয়েটা চলে গেল। ওকে মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে।”
শোনা গিয়েছিল, প্রেমঘটিত সমস্যার কারণেই চরম সিদ্ধান্ত নেন সায়নী। তাঁর মা যোগ করেন,“ আগের দিন রাতে আমার মেয়ে বয়ফ্রেন্ডের বাড়িতে গিয়েছিল। কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে। ওকে ছেলেটি খুবই হেনস্থা করেছে। ওর বন্ধুদের থেকে জানতে পারছি এখন। ও কখনও আমাকে বলেনি।” সায়নী এবং তাঁর মায়ের নানা ভিডিয়ো দেখা যেত সমাজমাধ্যমে। পোষ্য গরু, কুকুর, বিড়াল নিয়ে তাঁদের ভিডিয়ো অনেকেরই প্রিয়র তালিকায় ছিল।
আরও পড়ুন:
সায়নীর মা মলি জানান, মেয়ের সঙ্গে তিনি বন্ধু হিসাবেই মিশতেন। কিন্তু এত বড় কথা সবটাই মায়ের কাছ থেকে লুকিয়ে গিয়েছিলেন সায়নী। মলি আরও বলেন, “সে দিন রাতে বয়ফ্রেন্ডের বাড়িতে গিয়ে এমন কিছু ঘটেছিল হয়তো, তাই এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। পরবর্তী কালে ওর ফোনের চ্যাট ঘেঁটে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। আমাদের পুলিশ এবং প্রশাসনের উপরে আস্থা আছে। আমার মেয়ে বিচার পাক, এটাই চাই। যা সঠিক, তা-ই যেন হয়। এই ঘটনার পর থেকে মেয়ের বয়ফ্রেন্ড ও তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। কোনও দোষ না করলে কি কেউ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়?”
সায়নীর পরিবার সূত্রের দাবি, ছেলেটির সঙ্গে প্রায় চার বছরের সম্পর্ক ছিল তাঁর। দুই পরিবার ওদের সম্পর্ক মেনেও নিয়েছিল। মৃতার মা বলেন, “বন্ধুদের থেকে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ছেলেটি এই সম্পর্ককে পরে অস্বীকার করে। জানতে পেরেছি, আমার মেয়ের উপরে অত্যাচারও করেছে ছেলেটি। মারধর করত, মদ্যপান করত। আমাদের কাউকে কিছু বলেনি। কষ্ট করে মেয়েকে দাঁড় করিয়েছিলাম, সব ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেল। পশুপাখি সবাই কাঁদছে ওর জন্য। আমি কী করে সামলাব, জানি না।” পুলিশ সূত্রে অবশ্য এখনও কিছু জানানো হয়নি তদন্তের বিষয়ে।