এক আধ মিনিট নয়, টানা চার ঘণ্টা। বিষধর সাপের সঙ্গে সারা রাত কাটালেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক বৃদ্ধ। বিষাক্ত সরীসৃপটি যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তখন তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ওড়িশার বৌধ জেলার। বৃদ্ধ নড়াচড়া করতে না পারায় শরীরের খানিকটা অংশ দিয়ে তাঁর একটি হাত পেঁচিয়ে ধরে সাপটি। শরীরের অন্য অংশ কাছের একটি চেয়ার জড়িয়ে ধরে। ফলে প্রায় গোটা রাত বৃদ্ধকে সাপের সঙ্গে কাটাতে হয়। সকালে উঠে বাড়ির লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। নড়াচড়া করতে না পারার কারণে বৃদ্ধ সাপের কামড় থেকে রক্ষা পান।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওড়িশার হরভাঙা ব্লকের আদেনিগড় গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সম্প্রতি স্ট্রোক থেকে সেরে উঠছিলন কৃষ্ণচন্দ্র সাহু। তাঁর পরিবারের সদস্যেরা জানিয়েছেন, বৃদ্ধের ঘরের একটি জানলা সারা রাত খোলা ছিল। গভীর রাতে কোনও এক সময় একটি সাপ ঘরে ঢুকে তাঁর বিছানার দিকে চলে আসে। সরীসৃপটি তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে চলে যেতেই কৃষ্ণচন্দ্র বিপদের উপস্থিতি টের পান। কিন্তু শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার কারণে তিনি উঠে পালাতে পারেননি। সামান্য নড়াচড়া করার চেষ্টা করতেই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। সাপটি তাঁর হাত পেঁচিয়ে ধরে। সরীসৃপটি তাঁকে এক জায়গায় আটকে ফেলায় তিনি কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তিনি জানতেন সামান্য নড়াচড়া করলেই সাপটি ছোবল মারতে পারে।
ছোবল খাওয়ার আতঙ্ক সত্ত্বেও তিনি কয়েক ঘণ্টা নিশ্চল হয়ে পড়েছিলেন। সাপের কামড় এড়াতে তিনি কেবল ধৈর্য আর ভাগ্যের ওপর ভরসা করে বসেছিলেন। আশ্চর্যজনক ভাবে সরীসৃপটি বৃদ্ধের শরীরের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকার পরও তাঁকে কামড়ায়নি। সকালে পরিবারের লোকজন যখন বুঝতে পারেন কিছু একটা গোলমাল হয়েছে, তাঁরা দ্রুত ঘরে পৌঁছোন। ঘরের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান তাঁরা। সাপটিকে সরানোর ঝুঁকি না নিয়ে পরিবারটি অপেক্ষা করতে থাকে। বেশ কিছু ক্ষণ পর সাপটি নিজেই কৃষ্ণচন্দ্রকে ছেড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন সকলে।