ডায়াবিটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। আগে যা বয়সকালে দেখা যেত, এখন তা মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের হাত ধরে কম বয়সেও ঢুকে পড়েছে। কিন্তু কী ভাবে বশে থাকবে শর্করা?
পুষ্টিবিদ শ্বেতা জে পাঞ্চাল জানাচ্ছেন, বাড়িতে কারও ডায়াবিটিস থাকলে ছোটখাটো কয়েকটি অভ্যাসের বদলেই সুস্থ থাকা সম্ভব। খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মতো সাধারণ কয়েকটি বদলেই লুকিয়ে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
মুম্বই নিবাসী পুষ্টিবিদের পরামর্শ, ফল খাওয়ার সময়ে একটু দারচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা চট করে বাড়ে না। ভাল হয়, যদি সন্ধ্যা সাতটাতেই নৈশাহার শেষ করা যায়। আর খাওয়ার শেষে হাঁটা যায়। খাওয়ার শেষে মিনিট ৫-১০ হাঁটলে যেমন হজম ভাল হয়, তেমনই শর্করার মাত্রাও চট করে বাড়তে পারে না। তা ছাড়া, রুটি এবং ভাত, দু’টি মিলিয়ে মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস থাকে বহু বাড়িতে। তা থেকেও রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়তে পারে।
ভাত এবং রুটি একসঙ্গে খেলে সমস্যা কী? দিল্লি নিবাসী পুষ্টিবিদ কণিকা মলহোত্র বলছেন, ‘‘হিসাব সহজ। একটি বালতিতে যদি দু’টি কল থেকে একসঙ্গে জল পড়ে তা দ্রুত ভরবে। ভাত-রুটির বিষয়টিও তাই। দুই খাবারেই রয়েছে কার্বোহাইড্রেট। ফলে একসঙ্গে খাওয়া মানে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া।’’ পুষ্টিবিদের পরামর্শ, ভাত বা রুটির মধ্যে যে কোনও একটি বেছে নিতে হবে। তবে তার সঙ্গে প্রচুর স্যালাড এবং সব্জি থাকা দরকার। কারণ, সব্জি এবং স্যালাডের ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
বাকি বদলগুলি কতটা প্রাসঙ্গিক?
কণিকা মলহোত্রের কথায়, দারচিনির গুঁড়ো ইনসুলিন সেনসিভিটি ঠিক রাখতে সাহায্য করে, অর্থাৎ ইনসুলিন হরমোনে কোষ কতটা সাড়া দেবে, তার মাত্রা ঠিক রাখে। তা ছাড়া, খাওয়ার পরে খানিক পায়চারি করলে যে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বশে রাখা যায়, তা বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রয়োজন, সঠিক সময়ে খাওয়া। বেশি রাতে খেলে হজমের সমস্যা হয়।