রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে তাঁর বান্ধবীর এবং পরিবারের আর এক সদস্যের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাজ্য পুলিশের এক কর্মী। রবিবার দক্ষিণ কলকাতার একটি অভিজাত বহুতলে প্রাক্তন মন্ত্রীর ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। যদিও অভিযোগকারিণীর দাবি, থানায় ঘটনার কথা জানানোর পরে পুলিশ ‘পুরনো জমানার মতো’ ঘটনাকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করে। এর পর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ‘হেল্পলাইন’ নম্বরে ফোন করেন। তার পরেই পুলিশ তৎপর হয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
রাজ্যের প্রাক্তন ওই মন্ত্রীর সঙ্গে সব সময় দু’জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী থাকার কথা। অভিযোগকারিণীর কথায়, ‘‘রবিবার প্রাক্তন মন্ত্রী যখন কাজে বেরোচ্ছিলেন, তখন ওই কনস্টেবল তাঁর সঙ্গে বেরোতে রাজি হননি। এক জন রক্ষীকে নিয়েই প্রাক্তন মন্ত্রী বেরিয়ে পড়েন। কিছু ক্ষণ পরে বাড়িতে হইচই শুনতে পেয়ে গিয়ে দেখি ওই কনস্টেবল মত্ত অবস্থায় পরিবারের আর এক জনের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করছেন। আমি বাধা দিতে গেলে তিনি আমার উপরে চড়াও হন। আমার হাত মুচড়ে ধরেন এবং জঘন্য, অশ্রাব্য হুমকি দিতে থাকেন।’’
আরও পড়ুন:
রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ওই কনস্টেবল গত কয়েক দিন ধরে ছুটি সংক্রান্ত নানা শর্ত দিতে শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। তাঁর কথায়, ‘‘ওই কনস্টেবল বলছিলেন, তাঁকে মাসে ১৫ দিন করে ছুটি দিতে হবে। আমরা তাতে সম্মত না-হওয়ায় রবিবার তিনি ডিউটিতে থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে বেরোতে রাজি হননি। তার পরে বাড়িতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।’’
প্রাক্তন মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর এক পুলিশকর্মীও ঘটনার সময়ে বাড়িতে ছিলেন বলে অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন। ওই পুলিশকর্মী সে দিন ছুটি নিয়ে নিজের বাড়ি যাচ্ছিলেন। তার আগেই এই ঘটনা ঘটছে দেখে তিনি হস্তক্ষেপ করেন। তাঁর হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে আক্রান্ত মহিলা তথা প্রাক্তন অধ্যাপিকা জানিয়েছেন। তবে রবীন্দ্র সরোবর থানার প্রাথমিক ভূমিকা সম্পর্কে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগকারিণীর কথায়, ‘‘প্রথমে থানা আমার ফোনই তুলছিল না। তখন ফোনে প্রাক্তন মন্ত্রীকে সব জানাই। তিনি একাধিক বার ফোন করার পরে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তিনি নিজেও দ্রুত বাড়ি ফেরেন। প্রায় একই সময়ে পুলিশ পৌঁছোয়। কিন্তু পুলিশের কথা শুনে মনে হচ্ছিল যে, কর্তব্যরত অবস্থায় মদ্যপান করা ছাড়া ওই কনস্টেবলের আর কোনও অপরাধ তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না। তার চেয়েও গুরুতর যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, সেটি নিয়ে কেউ কোনও কথা বলছিলেন না।’’
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, এর পর তিনি ‘মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন’ নম্বরে ফোন করেন। প্রাক্তন অধ্যাপিকার কথায়, ‘‘প্রশাসনের মাথায় সদিচ্ছাসম্পন্ন ব্যক্তি থাকলে কী হয়, মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে ফোন করেই আমি তা বুঝতে পেরেছি। সেখানে ফোন করার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। ওই কনস্টেবলকে পুলিশ গ্রেফতার করে।’’