ভোট-পরবর্তী হিংসা ও বিজেপির কর্মীসভায় হামলার ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানে গ্রেফতার তৃণমূল নেতাকর্মীরা। জেলার পৃথক দুই ঘটনায় তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা-সহ মোট তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রথম ঘটনা, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে বর্ধমান-১ ব্লক তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি তুষারকান্তি ভট্টাচার্য ওরফে রানাকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাজেপ্রতাপপুরের মালিরবাগানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। ধৃতের বাড়ি বর্ধমান থানার মির্জাপুর এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার মির্জাপুরের এক মহিলা বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ২০২১ সালের ৭ মে সন্ধ্যায় মুদিখানার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মির্জাপুর মাঠের কাছে রাণা-সহ কয়েকজন তাঁর পথ আটকায়। অভিযোগ, তাঁর কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে কটুক্তি করা এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে।
শনিবার ধৃত তুষারকান্তি ভট্টাচার্যকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
অন্য দিকে, বিজেপির কর্মসভায় হামলা, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মেমারি থানার পুলিশ যোগীন্দ্র সাহানি ও তাঁর ছেলে রাকেশ সাহানিকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বাড়ি মেমারি থানার কদমপুকুরের চাকতিপাড়ায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় চাকতিপাড়ার কালীমন্দির সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় বিজেপির একটি কর্মসভা চলছিল। অভিযোগ, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ কয়েকজন সেখানে হামলা চালায়। বিজেপি কর্মী চন্দন সাহানিকে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে আসা দুই মহিলাকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে মেমারি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে চন্দন সাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার ধৃত বাবা-ছেলেকে আদালতে তোলা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম। আগামী সোমবার তাঁদের ফের আদালতে পেশ করা হবে।