গ্রীষ্মাবকাশের পর স্কুল শুরু হল বন্দেমাতরম গান দিয়ে। সোমবার সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে প্রার্থনার শুরুতে দেশের জাতীয় গান বন্দেমাতরম গান হয়। তার পর বিভিন্ন স্কুলে নির্ধারিত প্রার্থনা সঙ্গীত গাওয়া হয়, শেষে জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে প্রার্থনা শেষ হয়। কিন্তু, প্রায় কোনও স্কুলেই শোনা যায়নি ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’।
গত ৯ মে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পরই ঘোষণা হয়, স্কুলের প্রার্থনা সভায় গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’। এর আগে তৃণমূল সরকার প্রতিটি স্কুলে রাজ্যসঙ্গীত হিসাবে ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রাজ্যসঙ্গীত বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রথম থেকেই উঠছিল প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গাওয়া হবে না, এমন কোনও লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি সরকারের তরফে। তবে, শিক্ষা দফতরের তরফে স্কুল পরিদর্শকদের মৌখিক ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে স্কুলের প্রার্থনাসভায় আর রাজ্যসঙ্গীত গাইতে হবে না।
কলকাতার যাদবপুর বিদ্যাপীঠে প্রার্থনার সময়ে পড়ুয়ারা।
এ দিন ১০টা ৪৭ মিনিটে স্কুলে স্কুলে শুরু হয় প্রার্থনা। কম সময়ের মধ্যে পড়ুয়ারা অত বড় গান গলায় তুলে ফেলতে পারেনি বলে এ দিন বেশির ভাগ স্কুলেই অডিয়ো সিস্টেমে গানটি বাজানো হয়েছে। গলা মিলিয়েছে পড়ুয়ারা। আগেই শিক্ষকদের একাংশ দাবি জানিয়েছিলেন, সময় বাঁচাতে বন্দোমাতরমের প্রথম দু’টি স্তবক গাইতে দেওয়া হোক। সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা দফতরের সঙ্গে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, পুরোটাই গাইতে হবে। সেই নির্দেশ মতো সোমবার পুরো গানটিই গাওয়া হয়। তারপরে ৫২ সেকেন্ডের জাতীয় সঙ্গীত। কোনও কোনও স্কুলের নিজস্ব প্রার্থনা সঙ্গীত হয়।
কল্যাণী পান্নালাল ইনস্টিটিউটের প্রধানশিক্ষক রমেনচন্দ্র ভাওয়াল বলেন, ‘‘এ দিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সব ক্লাসে পৌঁছে যান শিক্ষকেরা। ৩০ সেকেন্ড পর থেকে শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ গান। ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড পরে ১০ সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে চালু হয় জাতীয় সঙ্গীত। ৫২ সেকেন্ড পরে জাতীয় সঙ্গীতের শেষে পড়ুয়াদের নাম ডেকে ক্লাস শুরু হয়।’’
কল্যাণীর পান্নালাল ইনস্টিটিউটেও চলছে প্রার্থনা।
আরও পড়ুন:
কলকাতার বিটি রোড হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘স্কুলে বন্দেমাতরম গান দিয়ে প্রার্থনা শুরু হয়। তার পর স্বামী বিবেকানন্দের বাণী পাঠ। আজ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন, তাই তাঁর জীবন ও আদর্শের কথা তুলে ধরা হয় পড়ুয়াদের কাছে। এ সবই আমাদের স্কুলের প্রচলিত রীতি। এর পর শিক্ষকেরা স্টাফ রুম এবং পড়ুয়ারা ক্লাসের টেবিল বেঞ্চ পরিষ্কার করে পঠনপাঠন শুরু করে।”
কেন্দ্রের তরফে নভেম্বর ২০২৫ থেকে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম্’ গানের ১৫০ বছর উদ্যাপন করা হচ্ছে।