সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার খাতার যে ঝাপসা স্ক্যান্ড কপি হাতে পেয়েছেন পরীক্ষার্থীরা, তা মোবাইল ফোনেও স্ক্যান করা হয়ে থাকতে পারে! এমনই অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, সিবিএসই বোর্ডই সেই সুযোগ এবং সুবিধা তৈরি করে দিয়েছিল, খাতা দেখার দায়িত্বে থাকা সংস্থার জন্য। যার ভুক্তভোগী হাজার হাজার পরীক্ষার্থী।
২০২৫ সালের মে মাসেও কথা ছিল, সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করা হবে রোবটচালিত স্ক্যানার দিয়ে। সেই খাতার ছবি বা স্ক্যান্ড কপির গুণমান বা রেজ়োলিউশনও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৩০০ডিপিআই-তে। মে মাসের টেন্ডারে সেই সমস্ত শর্ত দিয়েই খাতা দেখার সংস্থা বাছাইয়ের বিজ্ঞাপন দিয়েছিল বোর্ড। কিন্তু তিন মাস পরে অগস্ট মাসের টেন্ডারে সেই বিজ্ঞাপনের শর্তাবলি বদলে যায় বলে অভিযোগ রাহুলের। তিনি বলেছেন, সিবিএসই-র বদলে দেওয়া শর্তের সুযোগ নিয়েই দ্বাদশের খাতা স্ক্যান করা হয় মোবাইল ফোন দিয়ে।
গত ১৩ মে সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই খাতা দেখা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রথম অনস্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখা হয়েছে সিবিএসই দ্বাদশের। আর তার পরেই পাশের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫.২ শতাংশে। এ নিয়ে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নানা অভিযোগের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং সিবিএসই বোর্ডের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করেন রাহুলও।
রাহুল বলেছিলেন, খাতা দেখার দায়িত্বে থাকা সংস্থা কোএম্পট এডুটেক-কে সুসম্পর্কের দৌলতে অনৈতিক ভাবে ওই বরাত পাইয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। ওই সংস্থা এর আগে অন্যত্র খাতা দেখার দায়িত্ব নিয়ে বিতর্কে জড়ানোর পরেও লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর ভাগ্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ বার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে রাহুল অভিযোগ করেছেন, ‘‘পরীক্ষার খাতার স্ক্যান করা ছবির রেজ়োলিউশনও ৩০০ ডিপিআই থেকে কমিয়ে ২০০ ডিপিআই করে দেওয়া হয়। সংশোধিত টেন্ডারে বাদ পড়ে রোবটচালিত স্ক্যানারের শর্তও। অর্থাৎ পরীক্ষার খাতা যে কোনও স্ক্যানারে স্ক্যান করার ছাড়পত্র দেওয়া হয় বোর্ডের তরফে।’’
রাহুলের অভিমত, ‘‘সিবিএসই ইচ্ছা করেই কঠোর শর্তগুলি বাদ দিয়ে দেয়, যাতে যোগ্যতার বেড়া টপকাতে কোএম্পট-এর কোনও অসুবিধা না হয়। আর এই বিষয়গুলিকে কেবল ‘ভুল’ বলা যায় না। ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে জেনেও কোনও একটি সংস্থার সুবিধার জন্য শর্ত বদলানো আদতে প্রতারণা।’’