Advertisement
E-Paper

যাদবপুরে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে প্রার্থীর সঙ্গে তুমুল ঝামেলা কাউন্সিলরদের, অভিষেকের নামেই থামল বাগ্‌বিতণ্ডা

বুধবার রাতে যাদবপুরের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁপুইপাড়ার পার্টি অফিসে কোর কমিটির বৈঠক চলাকালীন তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদারের সঙ্গে একাধিক কাউন্সিলরের তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা বাধে। ঘটনাকে ঘিরে যাদবপুরের তৃণমূলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ০০:৪১
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

বিধানসভা ভোটের আবহে যাদবপুরে তৃণমূলের অন্দরেই প্রকাশ্যে এল মতানৈক‍্য। বুধবার রাতে যাদবপুরের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁপুইপাড়ার পার্টি অফিসে কোর কমিটির বৈঠক চলাকালীন তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদারের সঙ্গে একাধিক কাউন্সিলরের তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা বাধে। ঘটনাকে ঘিরে যাদবপুরের তৃণমূলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রার্থী দেবব্রত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বার্তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অভিষেকের নির্দেশ অনুযায়ী এ বারের নির্বাচনে কাউন্সিলরদের কাজের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে এবং সেই ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। যার অর্থ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার যে নির্বাচন হবে তাতে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরকে টিকিট দেওয়া হবে কি না তা বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর ওয়ার্ডের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে।

এই মন্তব্য শোনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কাউন্সিলর তারকেশ্বর চক্রবর্তী, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়রা। বৈঠকের মাঝেই তাঁরা উঠে দাঁড়িয়ে প্রার্থীর মন্তব‍্যের তীব্র আপত্তি জানান। উত্তেজিত সুরে তাঁদের অভিযোগ, “আমাদের অবিশ্বাস করা হচ্ছে। এই ভাবে অপমান করার কোনও মানে হয় না। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।”

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন প্রার্থী দেবব্রত পাল্টা মন্তব্য করেন, “সেই কারণেই তো কাউন্সিলর হয়ে বিধায়ক হওয়ার জন্য সিভি পাঠিয়েছিলেন।” এই মন্তব্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেবব্রত জানান, তিনি কেবল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তাই পৌঁছে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাব দেন, কাউন্সিলররা চাইলে তাঁদের ক্ষোভ ও বক্তব্য সরাসরি অভিষেকের কাছে তুলে ধরতে পারেন। এমনকি, ফোনে বিষয়টি জানাতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান। এর পরেই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং বৈঠক স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে।

যদিও ঘটনার পর দলীয় অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের একাংশের নেতার মতে, ভোটের মুখে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যাদবপুরে দলের নির্বাচনী সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে যাদবপুরে তৃণমূলের এই অন্দরকলহ নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণে চাপ বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছে তথ‍্যাভিজ্ঞ মহল।

Abhishek Banerjee TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy