রাজ্যবাসীর কাছে একগুচ্ছ ‘প্রতিজ্ঞা’ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের নির্বাচনী ইস্তাহারের নামকরণ করেছেন ‘প্রতিজ্ঞা’। চলতি বছরে রাজ্য বাজেটে সরকারের যে লক্ষ্য তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাকেই আগামী পাঁচ বছরের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট করে দলের এই ইস্তাহার তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দিন কয়েকের মধ্যেই তার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ সেরে পূর্ণোদ্যমে প্রচারে নেমে পড়বেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যত বেশি সংখ্যায় সম্ভব মানুষকে সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনেই দু’টি নির্বাচন পার করেছে তৃণমূল। সেই সব প্রকল্পেই সামাজিক ন্যায় ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিচ্ছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন পর্যন্ত সমাজের যে সব অংশের মানুষ সরকারের এই রকম প্রকল্পের আওতায় নেই, তাঁদেরও কাছে টানতে ‘প্রতিজ্ঞা’ করছে তৃণমূল। সে ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পে সরাসরি আর্থিক সহযোগিতার বৃত্ত আরও বড় করার কথা ভেবেছে শাসক দল। এই বৃহত্তর বৃত্তের আশ্বাসেই দলের প্রচারের অভিমুখ ঠিক করছে তৃণমূল। এ ক্ষেত্রে কর্মহীন অংশে সরকারি সাহায্য বা ‘ভাতা’র সুবিধাপ্রাপ্তের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে বার্ধক্যভাতার প্রকল্পে জোর দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, কর্মসংস্থানে আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রাও।
২০১৬ এবং ২০২১ সালের সেই কৌশল আরও দীর্ঘ হয়েছে রাজ্য বাজেটে। এ বার তাকে আরও খানিকটা বাড়িয়ে দলের ইস্তাহার তৈরি করছে তৃণমূল। এই ইস্তাহারে দলের এই ভাবনাকেই একত্র করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের আগে মমতাকে ‘ঘরের মেয়ে’ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার মতোই এ বারের ‘থিম’ হিসেবে ভাবা হয়েছে দু’টি লাইন— ‘যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই বাঁচাবে বাংলা মাকে।’
গত এক দশকে বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল ‘আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদ’ নিয়ে যে সুবিধা পেয়েছে এ বারের ইস্তাহারেও তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তারা। সেই ভাবনায় এ বারের ইস্তাহারে বাংলার ‘অস্মিতা’ ও ‘ঐতিহ্য’ সংক্রান্ত রাজনৈতিক চাপানউতোরও বিশেষ জায়গা পেতে চলেছে। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী অবস্থান বা রাজ্যের মানুষের ‘স্বাভিমান’ রক্ষায় তাঁদের ‘প্রতিজ্ঞা’র কথা থাকছে তৃণমূল নেত্রীর কথায়।
একই সঙ্গে শেষ পাঁচ বছরের জন্য তৃণমূল যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কতটা পূরণ হয়েছে সে কথাও ইস্তাহারে উল্লেখ করছে তৃণমূল। আবাস, ১০০ দিনের কাজের মতো যে সব প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়েছে সেগুলি সম্পর্কে নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্পষ্ট করার কথা ভাবা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)