কখনও ভ্যাপসা গরম। তার পরেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। আবহাওয়ার এই ভোলবদলে অ্যালার্জি বাড়ছে ছোটদের। কেউ ভুগছে সর্দি-কাশির সমস্যায়, কারও আবার চোখেও সংক্রমণ হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। এর থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় কী?
শ্বাসনালি ও ত্বক— মূলত এই দুই জায়গাতেই অ্যালার্জি বেশি হয় ছোটদের। ঠান্ডা লেগে শ্বাসনালিতে মিউকাস জমে গিয়ে সর্দি-কাশির সমস্যা হতে পারে। তা ছাড়া নাক দিয়ে জল পড়া, অনবরত হাঁচি, চোখ জ্বালার মতো অ্যালার্জির লক্ষণও দেখা দেয়। ত্বকে আবার নানা ধরনের র্যাশ দেখা যায়। শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পাল জানাচ্ছেন, কখনও চড়া রোদ আর আর্দ্রতা, আবার কখনও বৃষ্টির স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া—এই বৈপরীত্যেই বাতাসে ধূলিকণা, ছত্রাক এবং পরাগরেণুর মাত্রা বেড়েছে। সে সঙ্গে দাপট বেড়েছে একাধিক ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার। অনেক মা-বাবা একে সাধারণ ঠান্ডা-গরম লাগা ভেবে ভুল করছেন। আসলে এটি হতে পারে ‘সিজনাল অ্যালার্জি’ বা ‘অ্যালার্জিক রাইনাইটিস’।
ছোটবেলায় হাঁপানির যে সমস্যা দেখা দেয় তাকে ব্রঙ্কিয়াল হাইপার-রিঅ্যাক্টিভিটি বলা হয়। চিকিৎসক বলছেন, শ্বাসনালি, ব্রঙ্কাস ইত্যাদি প্রতিক্রিয়াশীল। তাই ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস ঢুকলে অথবা ধোঁয়া-ধুলো ঢুকলে খুব তাড়াতাড়ি সংক্রমণ ঘটে। নাক দিয়ে জল পড়া দিয়ে শুরু হয়, তার পরেই সর্দি একেবারে বুকে বসে যায়। তখন, ঘন ঘন হাঁচি, শুকনো কাশি, চোখ জ্বালা ও চোখে চুলকানিও দেখা দেয়। একেই বলে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। এর থেকে ত্বকেও সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
মা-বাবারা কী ভাবে সতর্ক থাকবেন?
ঘর যাতে স্যাঁতসেঁতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কার্পেট বা ভারী পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
ঘাম বসে গিয়ে যাতে ঠান্ডা না লাগে তাই শিশুকে সুতির আরামদায়ক পোশাক পরান। সিন্থেটিক পোশাকে সমস্যা আরও বাড়বে।
অনেক শিশুর কম বয়সে গরমের ধাত ও ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ধাত একসঙ্গে থাকে। তবু কোনও অবস্থাতেই এসি চালানো যাবে না। কোনও কোনও দিন খুব গরম লাগলে পাখার গতি বাড়িয়ে দিন, খুব ভাল হয় সারা রাতই গায়ে পাতলা একটা চাদর দিয়ে রাখলে।
শিশু বাইরে থেকে ফিরলে ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করিয়ে দিন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরাতে হবে শিশুকে।
অ্যালার্জির সমস্যা বেশি থাকলে প্রচুর পরিমাণে জল এবং ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে শিশুকে। জাঙ্ক ফুড বা তেলমশলা দেওয়া খাবার শিশুকে দেবেন না।
হাঁপানি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সমস্যা থাকলে ইনহেলার রাখতেই হবে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ইনহেলারই নিতে হবে।