E-Paper

রবিবার জোকায় পরিদর্শন, শীঘ্রই কাজ শুরু হবে ট্রাইবুনালের

ইতিমধ্যেই তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় থাকা ভোটারদের নিষ্পত্তির কাজ শেষ করেছেন বিচারকেরা। তাতে বাদ পড়েছেন প্রায় ২৭.১৬ লক্ষ ভোটার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আগামী বিধানসভা ভোটে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) ভূমিকা আরও কিছুটা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও)দফতর সম্প্রতি লিখিত ভাবে জানিয়েছে, সরাসরি ভোট-প্রক্রিয়ায় বিএলও-দের দায়িত্ব না থাকলেও, ভোটকেন্দ্রের (বুথ) প্রস্তুতি, নথির সঙ্গে ভোটারদের মিলিয়ে দেখা, ভোটার সহায়তা কেন্দ্রের দেখভাল করতে হবে তাঁদের। অন্যদিকে, কমিশন সূত্রের খবর, বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালের কর্মীদের প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। আগামিকাল, রবিবার জোকায় ট্রাইবুনালের জন্য নির্দিষ্ট ভবন পরিদর্শনে যাওয়ার কথা বিচারপতিদের। তার পরেই ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হতে পারে। পাশাপাশি, ভোটের কাজে নিযুক্ত সরকারি-বেসরকারি বাসের চালক-সহকারীরাও এ বার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।

ইতিমধ্যেই তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় থাকা ভোটারদের নিষ্পত্তির কাজ শেষ করেছেন বিচারকেরা। তাতে বাদ পড়েছেন প্রায় ২৭.১৬ লক্ষ ভোটার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে, বাদ পড়া ভোটারেরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। ২৩টি জেলার জন্য যে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এই দায়িত্ব সামলাবেন, তাঁদের এক একজনের সঙ্গে চার-পাঁচজন করে আধিকারিক সহায়তার কাজে নিযুক্ত থাকবেন। সেই আধিকারিকদের প্রশিক্ষণের কাজ হয়েছে শুক্রবার। আগামিকাল, রবিবার বিচারপতিরা যেতে পারেন জোকায় কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকের কার্যালয় (সেখানের একটি তলায় ট্রাইবুনালগুলি হচ্ছে) পরিদর্শনে। তার পরে দ্রুত শুরু কাজ শুরু করতে পারে ট্রাইবুনাল। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। তবে দু’টি দফার ভোটের জন্য ‘ফ্রিজ়’ হয়ে গিয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও। তাই ট্রাইবুনালের বিচারে বাদ পড়াদের মধ্যে কেউ যোগ্য বলে বিবেচিত হলে তিনি ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের উপরেই।

বিএলও-দের দায়িত্ব—বুথ-পরিকাঠামো তৈরি, ‘ওয়েবকাস্টিং’-এর ব্যবস্থা, ক্যামেরার অবস্থান কমিশনের বিধিসম্মত কি না, ভোটকেন্দ্রের ভিতর আলোর ব্যবস্থা ইত্যাদি খতিয়ে দেখা। ভোটের দিন ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’ পরিচালনা, ভোটারদের নাম খুঁজে পেতে সাহায্য করা, ভোটার লাইনে ভোটারদের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কাজও করতে হবে। মহিলা ভোটারদের ক্ষেত্রে এই কাজ করবেন মহিলা বিএলও-রা। ‘পর্দানসীন’ মহিলাদের চিহ্নিত করবেন মহিলা বিএলও-রাই। বিহারেও এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, কমিশন সূত্রের খবর, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রায় ১৫০০ বাস- মিনিবাস নির্বাচন কাজে যুক্ত থাকবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০০ বাসকর্মী এই কাজ করবেন বলে অনুমান। পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক ও সংগঠনগুলিকে ‘পাবলিক ভেহিকেলস ডিপার্টমেন্ট’ থেকে পোস্টাল ব্যালটের ফর্ম-১২ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত নথি-সহ পূরণ করা ফর্ম জমা দেওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী দফতরে।

এ দিকে এ দিন বীরভূমে এসে ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রভাবিত এলাকায় ভোটারদের বাড়ি গিয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। জানালেন, নির্ভয়ে ভোট দিন। কমিশন পাশে আছে। সব ব্যবস্থা করেছে। এ দিন দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকার যশপুর ও সিউড়ি বিধানসভা এলাকার সাহাপুরের যাত্রা, ডোমপাড়া ও বাগদিপাড়ায় যান মনোজ। গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে ওই সব এলাকায় লুটপাট হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। অন্য দিকে, যাত্রা গ্রামে ভোটপরবর্তী হিংসায় এক বধূর প্রতি অত্যাচারের ঘটনা এনআইএ পর্যন্ত গড়ায়। এর পরে সিউড়িতে গিয়ে সর্বদল বৈঠক করেন মনোজ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

JOka Tribunal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy