Advertisement
E-Paper

WB Election 2021: মোহন চুপ, দলের ভরসা টাইগারে

কালচিনিতে তৃণমূলের রাজনীতিতে মোহন শর্মা গোষ্ঠীর সঙ্গে দলের জেলা কো-অর্ডিনেটর পাসাং লামার গোষ্ঠীর সংঘাত অনেকদিন ধরেই চলছে।

পার্থ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২১ ০৫:৪৬
মুখোমুখি: দার্জিলিংয়ে বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে দেখা করলেন কালচিনির তৃণমূল প্রার্থী পাসাং লামা। শনিবার। নিজস্ব চিত্র।

মুখোমুখি: দার্জিলিংয়ে বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে দেখা করলেন কালচিনির তৃণমূল প্রার্থী পাসাং লামা। শনিবার। নিজস্ব চিত্র।

মান ভাঙাতে আসরে নেমেছেন রাজ্য নেতৃত্ব। কিন্তু বরফ গলেনি তাতেও। তাই আলোচনার রাস্তা খোলা রাখলেও, দলের প্রাক্তন আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মোহন শর্মাকে ‘বাদ’ দিয়েই কালচিনি বিধানসভায় প্রচারের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করল তৃণমূল। শুক্রবার, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ওই বিধানসভা কেন্দ্রে হওয়া বৈঠকে মোহনকে ডাকাই হয়নি বলে অভিযোগ। বরং তৃণমূল সূত্রের খবর, কালচিনিতে আদিবাসীদের সব গোষ্ঠীর ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে সেখানে তৃণমূলের প্রচারের অন্যতম মুখ হতে চলেছেন দলের মাদারিহাটের প্রার্থী টাইগার তথা রাজেশ লাকড়া। কারণ ভোটের মুখে এলাকার মোর্চা নেতা বিশাল লামা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় চিন্তা বেড়েছে তৃণমূল শিবিরে।

কালচিনিতে তৃণমূলের রাজনীতিতে মোহন শর্মা গোষ্ঠীর সঙ্গে দলের জেলা কো-অর্ডিনেটর পাসাং লামার গোষ্ঠীর সংঘাত অনেকদিন ধরেই চলছে। এ বার বিধানসভা নির্বাচনে কালচিনিতে পাসাংকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। অভিযোগ, যার জেরে মোহন শিবিরের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে গিয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর দলের প্রথম জেলা কমিটির বৈঠকেও মোহন কিংবা তাঁর শিবিরের নেতাদের দেখা যায়নি। মোহনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, মান ভাঙাতে দলের রাজ্য নেতারা তাঁকে ফোন করলেও, তিনি ধরেননি।

তৃণমূল সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে আলোচনার রাস্তা বন্ধ না করলেও, মোহনকে ছাড়াই এ বার কালচিনিতে পাসাংয়ের হয়ে প্রচারে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে দল। আর সেজন্যই কী ওই বিধানসভা কেন্দ্রে শুক্রবারের বৈঠকে মোহনকে ডাকা হয়নি— তা নিয়ে দলের অন্দরে উঠেছে প্রশ্ন।

এ দিন মোহন বলেন, “শুক্রবারের বৈঠকে আমায় কেউ ডাকেনি। যাঁরা পুরনো তৃণমূলের, তাঁরাও কেউ ওই বৈঠকের বিষয়ে জানতেন না।” এর পর তাঁর সংযোজন, ‘‘আমাকে বাদ দিয়ে যদি দল কালচিনি আসনে জয়ী হয়, তাহলে আমি খুশি হব। আমিও দলের জয় চাই।” তবে তৃণমূলের জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে দাবি করা হয়েছে, মোহন শর্মার স্ত্রী অসুস্থ। সে জন্যই হয়তো স্থানীয় নেতৃত্ব ওঁকে বৈঠকে ডাকেননি।

দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, “কাউকে বাদ দিয়ে প্রচারের ঘুঁটি সাজানোর প্রশ্নই নেই। তাছাড়া মোহন শর্মা নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। দলের স্বার্থে উনি নিজেকে ঠিকভাবে কাজে লাগাবেন বলে আমার বিশ্বাস।” তৃণমূল সূত্রের অবশ্য খবর, কালচিনির চা বলয় অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসীদের কাছে তৃণমূলের প্রচারের অন্যতম মুখ করা হচ্ছে রাজেশ লাকড়াকে।

এরই মধ্যে কালচিনির মোর্চা নেতা বিশাল লামা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিশালকে সামনে রেখে বিজেপি সেখানকার মোর্চা ভোটে থাবা বসায় কিনা, সেই প্রশ্নও দলে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার, মোর্চা নেতা বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে দেখা করেন পাসাং। তিনি বলেন, ‘‘মোর্চা আমাদের সঙ্গী। সে জন্য ওঁর সঙ্গে দেখা করেছি। মোর্চার সব ভোট আমরাই পাব।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy