Advertisement
E-Paper

কালাচ-চন্দ্রবোড়ার আতঙ্ক সরকারি হাসপাতালে! জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র নথিভুক্ত করতে যেতেও ভয়

ঝোপঝাড়ে থাকা বিষধর মাঝেমধ্যেই পুরনো নথিপত্রের ফাঁকে ঢুকে পড়ে। সাপের হাত থেকে বাঁচতে ঘরের প্রায় সর্বত্র কার্বলিক অ্যাসিড ছড়ানো হয়। ঘরে ঢুকলেই তার ঝাঁজালো গন্ধ এবং কটু গন্ধ নাকে আসে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১৭:৫৫
Bankura Sammilani Medical College

দরজায় সতর্কবার্তা লেখা কাগজ সাঁটানো। —নিজস্ব চিত্র।

ঝোপঝাড়়ে ঢাকা বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের লোকপুর ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব নতুন নয়। রাতের বেলা তো বটেই, দিনের বেলাতেও মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে চন্দ্রবোড়া, কালাচের মতো বিষধরদের। তবে গ্রীষ্ম আর বর্ষাকালে উপদ্রব আতঙ্কের আকার নেয়। সে জন্য সতর্কবার্তা লিখে দরজায় সাঁটিয়ে দিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা। শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বাঁকুড়া সম্মিলিনী মেডিক্যাল কলেজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল রেকর্ড বিভাগ। সেই ঘরের বাইরে ঘন ঝোপঝাড়। আর ঘরের ভিতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে প্রচুর নতুন-পুরনো নথি এবং ফাইল। বিভাগের কর্মীদের একাংশের দাবি, বাইরের ঝোপঝাড়ে থাকা বিষধর মাঝেমধ্যেই পুরনো নথিপত্রের ফাঁকে ঢুকে পড়ে। সাপের হাত থেকে বাঁচতে ঘরের প্রায় সর্বত্র কার্বলিক অ্যাসিড ছড়ানো হয়। ঘরে ঢুকলেই তার ঝাঁজালো গন্ধ এবং কটু গন্ধ নাকে আসে। কিন্তু ‘আদি বাসিন্দাদের’ সে সবে কোনও যায় আসে না। তারা দিব্যি থাকে। মাঝেমধ্যে ফোঁসফাঁস করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।

প্রতিদিন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে জন্মগ্রহণ নেওয়া শিশুর এবং মৃত্যু হওয়া রোগীর পরিজনেরা শংসাপত্র নিতে রেকর্ড বিভাগে যান। তাঁরা যাতে আগে থেকে সতর্ক থাকেন, সে জন্য রেকর্ড বিভাগের প্রবেশপথের মূল দরজায় সাঁটানো হয়েছে সাবধানবার্তা। এ নিয়ে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁকুড়ার শালতোড়া থেকে নথি সংক্রান্ত প্রয়োজনে হাসপাতালের রেকর্ড বিভাগে আসা শিবশঙ্কর তন্তুবায় বলেন, ‘‘প্রত্যেক দিন কয়েকশো মানুষ এই রেকর্ড বিভাগে আসেন। নিজেরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করে ‘সাপ হইতে সাবধান’ লেখা কাগজ সাঁটিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ! এ কেমন কথা?’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য রেকর্ড বিভাগে এসে সাপের ছোবলে কারও প্রাণ গেলে এর দায় কার নেওয়া উচিত?’’

বিতর্ক এবং ভয় নিয়ে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, কোনওটাই তাঁদের গোচরে ছিল না। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের সুপার অর্পণকুমার গোস্বামী বলেন, ‘‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

Snake Bankura Medical College hospital

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy