বিধায়কের নেতৃত্বে বুলডোজ়ার চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা সংক্রান্ত বিতর্কিত একটি জমির দখল নিলেন বাঁকুড়া মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। রাজ্যে পালাবদলের পরে ওই বিতর্কিত জমি ফেরত পাওয়ায় খুশি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকেরা।
বাঁকুড়া জেলার অন্যতম নামী স্কুল মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের জমির একাংশ এত দিন এক জন দখল করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, পূর্বতন শাসকদল তৃণমূলের মদতে ওই জমি দখল করে তা হস্তান্তরিত করা হয়েছিল অন্য এক ব্যক্তিকে। ওই জমিতে বেড়া দিয়ে সেখানে নির্মাণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সম্প্রতি স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন বাঁকুড়ার বিধায়ক নিলাদ্রীশেখর দানা। তার পরেই ওই জমি আবার স্কুলের হাতে তুলে দেওয়ায় উদ্যোগী হন বিধায়ক।
মঙ্গলবার সকালে বিধায়ক নিলাদ্রী স্কুল কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে বুলডোজ়ার চালিয়ে ওই জমি খালি করান। সেখানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বেড়া। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাধন ঘোষ বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা ওই জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করায় এত দিন বারেবারে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল আমাদের। রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পরে তা পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন সেই জমি স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নয়নের কাজে লাগানো সম্ভব হবে।’’ মধুসূদন ভট্টাচার্য নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘‘তৃণমূলের মদতে অন্যায় ভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল স্কুলের জমি।’’ বিধায়ক নিলাদ্রী বলেন, ‘‘সরকারি জমি এভাবে যে বা যাঁরা গায়ের জোরে এত দিন দখল করে রেখেছিলেন, বুলডোজ়ার চালিয়ে সেই জমি পুনরুদ্ধার করার কাজ শুরু হল। এত দিন ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানানোর সাহস পাননি। এখন ভয় ঘুচে গিয়েছে। ভরসা এসেছে। আর বাঁকুড়ার মাটিতে কোনও অন্যায় হতে দেব না।’’
অন্য দিকে, টিকিয়াপাড়ায় রেলের জমিতে ঝুপড়ি উচ্ছেদ হল। মঙ্গলবার দু’টি বুলডোজ়ার দিয়ে টিকিয়াপাড়া বাইপাসের ধারে বেআইনি ঝুপড়ি ভেঙে দেন রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা ছিল আরপিএফ, পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। আভিযোগ, দীর্ঘ দিন রেলের ওই জমিতে বেআইনি ভাবে ঘর বানিয়ে বসবাস করছে ১০০-রও বেশি পরিবার। তার পাশেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের টিকিয়াপাড়া থেকে হাওড়া স্টেশন যাতায়াতের রেললাইন। অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষায় রেললাইনের ধারে বড় নর্দমাগুলি ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না ঝুপড়ি থাকার কারণে। ফলে রেললাইন ও পাশে রাস্তায় জল জমে যায়। ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। রেল কর্তৃপক্ষ বস্তি উচ্ছেদের মাধ্যমে নিকাশি নালা পরিষ্কার করতে চাইছেন। যাতে এ বারের বর্ষায় রেল ট্রাকে জল না জমে।
মঙ্গলবার উচ্ছেদের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঝুপড়িবাসীদের বক্তব্য, তাঁরা দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করছেন। বর্ষার সময় কোথায় যাবেন, কী ভাবে থাকবেন।