দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে ভোটের ময়দানে রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ। খেলাধুলোর জগতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে রাজনীতির জগতে তিনি একেবারেই নতুন। যদিও তৃণমূল এই প্রাক্তন অ্যাথলিটের উপর ভরসা রেখেছে। জটিলতা কাটিয়ে সোমবার তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন। সেই সঙ্গে হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর নামে কত সম্পত্তি আছে? গাড়ি, বাড়ি— কী আছে তার হিসাবও দাখিল করেছেন ২০১৮ সালের এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জলপাইগুড়ির এই রাজগঞ্জে জিতেছিল তৃণমূলই। খগেশ্বর রায় তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। তবে এ বার তাঁর জায়গায় স্বপ্নাকে টিকিট দেয় পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল, যা নিয়ে ‘গোসা’ হয়েছিল খগেশ্বরের। রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। পরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে স্বপ্নার হয়ে প্রচার করেন রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক। তবে স্বপ্নার মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় খগেশ্বরই ‘প্রথম পছন্দ’ ছিল তৃণমূলের। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই জটিলতা কাটে।
তৃণমূল স্বপ্নাকে প্রার্থী করা ইস্তক নানা বাধাবিপত্তির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন স্বপ্না। তাঁর বিরুদ্ধে রেল অভিযোগ করে, কর্মরত অবস্থায় সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। ঘটনাচক্রে, ইস্তফা দেন স্বপ্না। তিনি জানান, পেনশনও নেবেন না। তবে তার পরেও ছাড়পত্র পাননি স্বপ্না। আদৌ তিনি এ বারের ভোটে লড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে রবিবার রাতে সেই জট কাটে। ২৯ বছর বয়সি সেই স্বপ্নার সম্পত্তি, জমিজমা, আয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে তাঁর নির্বাচনী হলফনামায়।
আরও পড়ুন:
সম্পত্তি ও নগদ
প্রাক্তন অ্যাথলিটের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা। তবে পাঁচটি ভিন্ন ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট আছে তাঁর। সেই পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে মোট ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৫৫৯ টাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু অঙ্কের বিনিয়োগও রয়েছে। স্বপ্না জানান, ২০২১ সালে একটি গাড়ি কিনেছিলেন। তখন সেই গাড়ি তিনি কিনেছিলেন ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকায়। রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ১২০ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য ১৬ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে স্বপ্নার মোট ৭৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৭ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
অস্থাবর ছাড়াও কিছু স্থাবর সম্পত্তিও রয়েছে স্বপ্নার নামে। তিনি জানিয়েছেন, কোনও কৃষিজমি নেই। তাঁর নামে কোনও অফিস বা সংস্থাও নেই। তবে বসবাসযোগ্য একাধিক জমিজমা আছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থীর কাছে মোট ৩৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর ঘাড়ে ঝুলছে না তেমন কোনও ঋণের বোঝা। তবে একটি রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাঙ্কে ২১২ টাকার ঋণ আছে।
আরও পড়ুন:
অপরাধের রেকর্ড
প্রাক্তন অ্যাথলিটের নামে কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। কোথাও কোনও এফআইআর হয়নি।
পড়াশোনা
খেলাধুলোর পাশাপাশি, পড়াশোনাতেও মেধাবী ছিলেন স্বপ্না। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে স্নাতক পাশ করেন। ২০২২ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাশ করেন রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত