বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা যেন থামছেই না জগদ্দল ও ভাটপাড়ায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই দুই এলাকা থেকে প্রায় ৪৫টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, অসংখ্য কার্তুজ ও বোমার হদিস মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতেও ভাটপাড়ার একটি বাড়িতে হানা দিয়ে কার্তুজ-সহ সেভেন এমএম পিস্তল উদ্ধার হয়েছিল। গ্রেফতার করা হয়েছিল এক জনকে।
জগদ্দল, ভাটপাড়ায় দুষ্কৃতীদের রমরমা নিয়ে চিন্তায় মুখ্যমন্ত্রীও। গত ৯ এপ্রিল নোয়াপাড়ার জনসভায় এসে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রাক্তন সহযোদ্ধা, এ বারের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহের নাম না করে ২০১৯ সালের স্মৃতি উস্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বোমা ও অস্ত্র নিয়ে গুন্ডামির আশঙ্কাও করেন। প্রার্থী ঘোষণার পরেই জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমারও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। জগদ্দলের প্রথম প্রচারসভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, ‘‘জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র দুষ্কৃতীদের ঘরে পরিণত হয়েছে। আমার প্রথম লক্ষ্য, কথায় কথায় আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা নিয়ে ভয় দেখানো বন্ধ করে দুষ্কৃতীমুক্ত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা।’’
পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন আবহে শুধু ভাটপাড়া থানাই অভিযান চালিয়ে ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৯ রাউন্ড কার্তুজ অসংখ্য বোমা উদ্ধার করেছে। গ্রেফতার হয়েছে ২৯ জন দুষ্কৃতী। এই পুলিশি তৎপরতার পিছনে বিজেপির বিধায়ক প্রার্থী তথা সদ্য প্রাক্তন পুলিশকর্তা রাজেশ কুমারের হাত রয়েছে বলে মত বাসিন্দাদের। ২০১৯ সালে খুব অল্প সময়ের জন্য কলকাতা পুলিশের নগরপাল হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি উত্তর শহরতলির একাধিক দুষ্কৃতী সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখতেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরাই। ফলে দুষ্কৃতী দমনে পুলিশের খামতি থাকলে তাঁর যে নজর এড়াবে না, বলা বাহুল্য।
শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতীদের রমরমা নিয়ে বিজেপি প্রার্থী আঙুল তুলেছেন তাঁর বিপক্ষে দাঁড়ানো তৃণমূলের সোমনাথ শ্যামের দিকে। দলের শ্রমিক সংগঠনের হাল ধরে রাখা দুঁদে রাজনীতিক সোমনাথের সঙ্গে বেআইনি অস্ত্র-কাণ্ডে আরও এক ধৃত দুষ্কৃতী সুজিত চৌধুরীর ছবি দেখিয়ে রাজেশ দাবি করেছেন, ‘‘দুষ্কৃতীরা ভোটের আগে জেলবন্দি হবে। মানুষ নির্ভয়ে ভোট দেবে এ বার।’’ সোমনাথও পাল্টা বলেছেন, ‘‘মানুষের সঙ্গেই তো মিশে আছি। কত জন দেখা হলেই ছবি তোলেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)