Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘মেরুকরণের চেষ্টা করছেন’! হুমায়ুনের বিরুদ্ধে এ বার সিউড়ি থানায় অভিযোগ, কবীরের দাবি, ‘তৃণমূলের চক্রান্ত’

হুমায়ুন এ সবের নেপথ্যে তৃণমূলের হাত দেখেছেন। দাবি করেছেন, আগাম জামিন তিনি নেবেন না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৫
হুমায়ুন কবীর।

হুমায়ুন কবীর। — ফাইল চিত্র।

আবার বিপাকে পড়লেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার রাতে বীরভূমের সিউড়ি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘রাষ্ট্রীয় অল্পসংখ্যক আরক্ষণ মোর্চা’-র সর্বভারতীয় সভাপতি হাজি মহম্মদ পারভেজ সিদ্দিকি। তাঁর অভিযোগ, ভোটে মেরুকরণের চেষ্টা করছেন হুমায়ুন। ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’ দিচ্ছেন। হুমায়ুন এ সবের নেপথ্যে তৃণমূলের হাত দেখেছেন। দাবি করেছেন, আগাম জামিন তিনি নেবেন না।

অভিযোগকারী সিদ্দিকির দাবি, হুমায়ুন অর্থের বিনিময়ে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটে মেরুকরণ করার চেষ্টা করছেন। সিউড়ি থানায় একটি ‘জ়িরো এফআইআর’ রুজু করে তিনি হুমায়ুনের দ্রুত গ্রেফতারির দাবি করেছেন। সিদ্দিকির কথায়, “বাবরি মসজিদ দেশের মুসলিমদের আস্থার প্রতীক। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীর বলছেন বাবরি মসজিদ নির্মাণ তাঁর আসল উদ্দেশ্য নয়। বরং তিনি ১০০০ কোটি টাকার ডিল করে কোনও এক শক্তির হয়ে ভোটে লড়তে চাইছেন এবং পরোক্ষ ভাবে ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’কে সাহায্য করছেন।” এই ধরনের বক্তব্যে মুসলিম সমাজ ব্যথিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

হুমায়ুন অবশ্য তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, “এ সবই তৃণমূলের চক্রান্ত। ভোটের আগে মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করতে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা দিল্লি থেকে কিছু লোককে ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। তাঁরা হাজি নাম নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন।” তিনি আরও জানান, সিউড়ি থানার এই অভিযোগকারী এর আগে রেজিনগর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তবে এই বিষয়টিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ হুমায়ুন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আগাম জামিন নেবেন না এবং আইন আইনের পথেই চলবে।

উল্লেখ্য, এই নিয়ে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মোট তিনটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কলকাতার ময়দান থানা এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার পরে বীরভূমের সিউড়ি থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। রেজিনগর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই পূর্বের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
২০ মিনিট আগে
Humayun Kabir
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy