ন’বছরের এক নাবালকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে এক উনিশ বছরের তরুণীর। এর পর সেই অসম বয়সী দম্পতির ফুলশয্যা। হ্যাঁ, ‘পহেরেদর পিয়া কি’ সিরিয়ালের চিত্রনাট্যে এ সব দেখানোতেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। সেই সিরিয়ালকে এ বার শর্তসাপেক্ষে দেখানোর নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক।

আরও পড়ুন, কন্যাসন্তানের মা হতে ভয় পাই, মোদীকে টুইট অভিনেত্রীর

কী শর্তে দেখানো হবে সিরিয়ালটি?

প্রাইম টাইম অর্থাৎ রাত সাড়ে আটটার সময় একটি জনপ্রিয় হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয় এই সিরিয়াল। ব্রডকাস্টিং কন্টেন্ট কমপ্লেন্টস কাউন্সিল (বিসিসিসি)-এর নির্দেশে সেই সময় বদল হতে চলেছে। সিরিয়ালটির সময় বদলে ‘রেস্ট্রিক্টেড’ স্লট, রাত ১০টা করতে হবে। পাশাপাশি, সম্প্রচারকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সিরিয়াল চলাকালীন পুরো সময় ধরে একটি স্ক্রোল চালাতে হবে, যেখানে লেখা থাকতে হবে, ‘‘এই সিরিয়ালের গল্প সম্পূর্ণ কাল্পনিক। চ্যানেল কোনও ভাবেই বাল্য বিবাহ প্রথাকে সমর্থন বা তার প্রচার করে না।’’ যদিও এ নিয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন, মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা হয়েছিল, স্বীকারোক্তি কমলের

কী বিতর্ক তৈরি করেছিল সিরিয়ালটি?

ধারাবাহিকটি একটি ন’বছর বয়সি ছেলের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সি যুবতীর বিয়ে ও তার পরবর্তী সাংসারিক জীবনের চিত্রনাট্য নির্ভর। সম্প্রতি এই অসম জুটির মধুচন্দ্রিমায় যাওয়া, এক বালকের নিজের প্রায় দ্বিগুণ বয়সি মেয়ের পিছু নেওয়া, ৯ বছরের ছেলের ১৯ বছরের স্ত্রীকে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া, নানা অন্তরঙ্গ দৃশ্যও দেখানো ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দর্শক। দাবি ওঠে, এ ধরনের দৃশ্য দর্শক ও শিশুদের মনে কুপ্রভাব ফেলতে পারে। তাই অবিলম্বে ধারাবাহিকটি দেখানো বন্ধ করা উচিত। এর পরেই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে উদ্দেশ্য করে একটি অনলাইন সাইটে পিটিশন শুরু হয়। পিটিশনে সই প্রায় ৬৭ হাজারেরও বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছিল।