Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

সার্জারিতে মুখবদল থেকে স্বল্পবাসে চর্চায়, ছবির চেয়ে বিতর্ক বেশি আদিত্যর প্রাক্তন প্রেমিকার

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৯ ডিসেম্বর ২০২০ ১০:১৪
মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়ারই পক্ষপাতী তাঁর আসবাবপত্র ব্যবসায়ী বাবা। মা শিক্ষিকা থেকে পরে হন মার্কেটিং এগজিকিউটিভ। বাবার কথা শুনে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিয়ে করেন তাঁর দিদি। কিন্তু পারিবারিক ধারার বিরুদ্ধে গিয়ে বলিউডে কেরিয়ার করেছেন বাণী কপূর। বয়স ৩০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি অবিবাহিতা।

১৯৮৮ সালের ২৩ অগস্ট বাণীর জন্ম দিল্লিতে। পড়াশোনা ‘মাতা জয় কউর পাবলিক স্কুল’ এবং ‘অশোক বিহার স্কুল’-এ। পরে তিনি পর্যটন নিয়ে স্নাতক হন ইন্দিরা গাঁধী জাতীয় মুক্ত বিদ্যালয় থেকে।
Advertisement
স্নাতক হওয়ার পরে তিনি প্রথমে ইনটার্নশিপ করেন জয়পুরে ওবেয়র হোটেলস অ্যান্ড রিসর্টস থেকে। পরে চাকরি করেন আইটিসি গোষ্ঠীর হোটেলে। এর পর চাকরি ছেড়ে পা রাখেন মডেলিংয়ের দুনিয়ায়।

বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের সুবাদে মডেলিংয়ের দুনিয়ায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁকে দেখা গিয়েছিল যশরাজ ফিল্মসের মিউজিক ভিডিয়ো ‘ম্যায়ঁ ইয়ার মনানা নি’-তেও। ‘ম্যাক্সিম’, ‘কসমোপলিটন’, ‘এল’, ‘ভোগ’-সহ পৃথিবীর বিখ্যাত লাইফস্টাইল পত্রিকার প্রচ্ছদে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
Advertisement
২০১৩ সালে অডিশন দিয়ে বাণী সুযোগ পান ‘শুধ দেশি রোমান্স’ ছবিতে। আদিত্য চোপড়া প্রযোজিত এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন সুশান্ত সিংহ রাজপুত এবং পরিণীতি চোপড়া।

ছবিতে বাণী অভিনীত ‘তারা’ চরিত্রটি প্রশংসিত হয়। বক্স অফিসে সফল এই ছবিতে অভিনয় করে সেরা নবাগতা হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি।

পরের বছর তিনি অভিনয় করেন তামিল ছবি ‘আহা কল্যাণম’-এ। ২০১০ সালের হিন্দি ছবি ‘ব্যান্ড বজা বরাত’-এর হিন্দি সংস্করণ এটি।

২ বছরের বিরতির পরে বাণী আবার ফিরে আসেন বলিউডে। অভিনয় করেন যশরাজ ফিল্মস-এর ‘বেফিকরে’-তে। বিপরীতে নায়ক ছিলেন রণবীর সিংহ। এই ছবিতে রণবীর-বাণী জুটির দুরন্ত অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল।

ছবিতে এই জুটির একাধিক চুম্বনদৃশ্য নিয়েও সে সময় আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারিতে পৌঁছতে পারেননি তিনি। পরবর্তী ছবি ‘ওয়ার’-এ সুযোগ পেতে সময় লেগে যায় আরও ৩ বছর।

‘ওয়ার’-এ বাণীর সহঅভিনেতা ছিলেন হৃতিক রোশন এবং টাইগার শ্রফ। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত যশরাজ ফিল্মস-এর এই ছবি ছিল সুপারহিট। মুক্তির প্রথম দিনেই উপার্জনের দিক থেকে এই ছবিটি বলিউডের পুরনো বহু রেকর্ড ভেঙে দেয়। বাণীর কেরিয়ারে এটাই সবথেকে উল্লেখযোগ্য ছবি।

‘শমসেরা’, ‘বেল বটম’ এবং ‘চণ্ডীগড় করে আশিকি’— বাণীর এই তিনটি ছবির কাজ সম্পূর্ণ। মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে তিনটি ছবিই।

ছবির তুলনায় বাণীকে ঘিরে ইন্ডাস্ট্রিতে বিতর্ক বেশি। ‘বেফিকরে’ ছবির ট্রেলর মুক্তির পরে দর্শকরা দাবি করেন, তিনি প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন। ফলে পাল্টে গিয়েছে তাঁর নাক, ঠোঁট এবং চিকবোনের গড়ন।

এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন বাণী। তাঁর দাবি ছিল, তিনি ওজন কমিয়ে রোগা হয়েছেন। তা ছাড়া প্যারিসে তীব্র ঠান্ডায় ‘বেফিকরে’-এর শ্যুটিং হয়েছে। ফলে এই সব কারণেই তাঁকে অন্যরকম দেখিয়েছে বলে দাবি ছিল নায়িকার।

কিন্তু তাঁর এই দাবিতে দর্শকদের মুখ বন্ধ করা যায়নি। শেষে বাণী বলেন, প্লাস্টিক সার্জারি করার মতো আর্থিক সঙ্গতি তাঁর নেই। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে বাকি যাঁরা প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন, তাঁদের নিয়েও কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বার বার একই প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে তিনি ক্লান্ত, জানান বাণী।

প্রথমে ফ্যাশন ডিজাইনার নিখিল থাম্পি এবং পরে পরিচালক আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে বাণীর প্রেমের গুঞ্জন শোনা গিয়েছে। তবে দু’টি সম্পর্কের কথাই অস্বীকার করেছেন তিনি।

পোশাকের জন্য তাঁর নামে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর-ও। একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন বাণী। সেখানে তিনি একটি খোলামেলা টপ পরেছিলেন। ওই পোশাকের কাপড় ছিল নামাবলীর মতো দেখতে।

কাপড়টিতে ‘রাম’ নাম লেখা ছিল। এর পর বাণীর নামে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বাণীকে ক্ষমাপ্রার্থনার জন্যেও দাবি উঠেছিল নেটাগরিকদের একাংশের মধ্যে। ক্ষমা না চাইলেও বাণী ছবিটি সরিয়ে দেন প্রোফাইল থেকে।

উত্তর ভারতীয় এবং ইটালীয় খাবারের ভক্ত বাণী অবসরে সিনেমা দেখতে ভালবাসেন। ব্র্যাডলি কুপার এবং হৃতিক রোশন তাঁর প্রিয় অভিনেতা। পছন্দের নায়িকা রেখা এবং মাধুরী দীক্ষিত। প্রিয় পরিচালক রাজকুমার হিরানি এবং যশ চোপড়া।

বেড়াতে যাওয়াও তাঁর প্রিয় শখের মধ্যে অন্যতম। ছুটি কাটানোর প্রিয় গন্তব্য দুবাই। মরুশহরেই এখন থাকেন তাঁর বিবাহিত দিদি নূপুর চোপড়া।

শোনা যায়, বাণী যখন প্রথম মডেলিং করতে এসেছিলেন তখন তাঁর ওজন ছিল ৭৫ কেজি। দাঁতে পরতে হত ব্রেস। সেখান থেকে নিজেকে মডেলিংয়ের জন্য তৈরি করে তোলেন তিনি। কাজের সুযোগ কম পেলেও টিনসেল টাউন থেকে সহজে হারিয়ে যেতে আসেননি বাণী।