×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

দেশ

ব্রিটিশ আঘাতে ধ্বস্ত প্রাচীন এই প্রাসাদ আজ বিলাসবহুল হোটেল, এখানেই থাকেন এক আধুনিক রাজকুমার

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৫:৫৮
খাতায়কলমে রাজতন্ত্রের অবসান হয়ে গেলেও রাজকীয় রীতিনীতি বজায় আছে ষোলো আনা। ভারতেই আছে এ রকম বেশ কিছু রাজপরিবার। তাঁদের মধ্যে অন্যতম রাজস্থানের অলসীসর রাজবংশ। রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার উত্তর পশ্চিম অংশে অলসীসর একটি ছোট্ট শহর। স্থানীয় রাজপরিবার দেশের সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলির মধ্যে অন্যতম।

অলসীসরের রাজপরিবারের সম্পর্ক সুদূর অতীতে ছিল খেতড়ী রাজপরিবারের সঙ্গে। বর্তমানে স্থানীয় রাজবংশের প্রধানপুরুষকে ‘খেতড়ীর রাজা’ পরিচয়েই সম্বোধন করা হয়। কুমার অভিমন্যু সিংহ বর্তমানে এই বংশের প্রধানপুরুষ।
Advertisement
অভিমন্যুর জন্ম ১৯৮৫ সালের ৬ অগস্ট। মেয়ো কলেজের প্রাক্তনী অভিমন্যু পরে হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০০১ সালে তিনি বিয়ে করেছেন সংযুক্তা সিংহকে।

এই রাজবংশের অঢেল সম্পত্তির মধ্যে অন্যতম তাঁদের অলসীসর প্রাসাদ ও জয়পুর এবং রণথম্ভোরের হাভেলী। দুর্লভ সংগ্রহের ভিতরে আছে ১৯৫৩ সালে তৈরি একটি আমেরিকান জিপ। কোরীয় যুদ্ধে ব্যবহৃত জিপটি পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। পরে ভারত এটি দখল করে। অভিমন্যুর ঠাকুরদা এটি কিনে নিয়েছিলেন নিলামে।
Advertisement
অলসীসর প্রাসাদে প্রতি বছর আয়োজিত হয় সমসাময়িক গানের উৎসব ‘ম্যাগনেটিক ফিল্ডস’। মূল উদ্যোক্তা কুমার অভিমন্যু সিংহ। প্রসঙ্গত অলসীসর প্রাসাদ একটি হেরিটেজ হোটেল। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে প্রাসাদে প্রথম থাকতে শুরু করে এই রাজপরিবার। তার আগে ঝুনঝুনুর রাজা শার্দূল সিংহের প্রপৌত্র ঠাকুর সমর্থ সিংহ এই প্রাসাদ দখল করেছিলেন।

ব্রিটিশদের আঘাতে বিধ্বস্ত প্রাসাদকে ১৯৫৪ সালে সারিয়ে তোলা হয়। তার পরেও বহু বার এর সংস্কারসাধন হয়েছে। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এবং ইতিহাসপ্রেমীর পা পড়ে এই অলসীসর প্রাসাদে। জয়পুরেও একটি প্রাসাদোপম বাসভবন আছে এই পরিবারের। রাজকুমার বছরের বিভিন্ন সময়ে এই প্রাসাদগুলিতে থাকেন।

রাজস্থানের অধিকাংশ প্রাসাদ ও কেল্লাগুলির মতো অলসীসর প্রাসাদেরও একাংশ ব্যবহৃত হয় রাজপরিবারের বাসভবন হিসেবে। অন্য অংশ বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করা হয় বিলাসবহুল হোটেল হিসেবে। পুরো প্রাসাদের অন্দরসজ্জায় চেষ্টা করা হয়েছে অষ্টাদশ শতকের মেজাজ ধরে রাখার।

এই হোটেল ব্যবসার দেখভাল করেন কুমার অভিমন্যুই। রাজপুত যুবরাজ হলেও তিনি ভাবনাচিন্তায় আধুনিক যে কোনও তরুণের মতোই। সঙ্গীতানুরাগী এই রাজপুরুষ ভবিষ্যতে গান নিয়ে আরও কাজ করে যেতে চান।

গানের মধ্যে তাঁর সবথেকে বেশি পছন্দ সুফিসঙ্গীত। সুফিবাদ অনুসরণ করেই শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান রাজকুমার। রাজপুত হলেও তিনি বিশ্বাস করেন যুদ্ধ বা লড়াই করে কিছুই হয় না।

হকিভক্ত রাজকুমার জনসাধারণের জন্য কাজ করে যেতে চান। অলসীসর প্রাসাদের মতো সম্পত্তির মালিক হওয়ার সবথেকে বড় সুবিধে তাঁর কাছে এটাই যে, তিনি প্রতি বছর এখানে সঙ্গীতের উৎসবের আয়োজন করতে পারেন।

পারিবারিক অমূল্য জিপগাড়ির সংগ্রহ নিয়ে গর্ব থাকলেও তাঁর পছন্দের বাহন মিৎসুবিশি পাজেরো স্পোর্ট। তবে পোশাক এবং জুতোর ক্ষেত্রে নামী ব্র্যান্ডের তুলনায় তাঁর পছন্দ কারিগরি। নিজস্ব কারিগরের হাতে সেলাই করা পোশাক ছাড়া তিনি পরেন না। পুণের এক কারিগরের তৈরি জুতো ছাড়া ব্যবহার করেন না অন্য জুতোও।

ক্রোয়েশিয়ায় ছুটি কাটাতে পছন্দ করা এই রাজকুমারের ইচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং সঙ্গীতের পাশাপাশি প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্যেও সারা জীবন কাজ করে যাওয়া।