Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

মেয়েই দত্তক বেশি ভারতে, কিন্তু আশা কতটা! 

আপাত ভাবে বেশ আশা জাগানোর মতো। গত তিন বছরে এ দেশে যত শিশু দত্তক নেওয়া হয়েছে, তার ৬০ শতাংশই মেয়ে। লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে নারী ও শিশু কল্যা

নিজস্ব প্রতিবেদন
নয়াদিল্লি ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০২:২৪
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

আপাত ভাবে বেশ আশা জাগানোর মতো। গত তিন বছরে এ দেশে যত শিশু দত্তক নেওয়া হয়েছে, তার ৬০ শতাংশই মেয়ে। লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক এই হিসেব দিয়েছে। কন্যাভ্রূণ বা কন্যা সন্তান হত্যার মতো সমস্যায় জর্জরিত দেশে এমন তথ্য অবাক করেছে অনেককে। মনে করা হচ্ছে, কন্যাসন্তান পরিত্যাগের ঘটনা বেশি বলেই শিশুদের হোমগুলিতে তাদের সংখ্যা বেশি। দত্তক নেওয়া শিশুর সংখ্যায় তারই প্রতিফলন ঘটছে। যার অর্থ, মেয়েদের বেশি সংখ্যায় দত্তক নেওয়ার ঘটনাটা যতটা না আশা জাগানোর, তার চেয়েও ঢের বেশি উদ্বেগের। তবে আসল সঙ্কটটা লুকিয়ে রয়েছে সংখ্যায়।

নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮-র মধ্যে ১১ হাজার ৬৪৯ জন পরিত্যক্ত বা অনাথ শিশু দত্তক নেওয়া হয়েছে দেশে। এদের মধ্যে মেয়ে ৬৯৬২ জন ও ছেলে ৪৬৮৭ জন। ২০১৫-১৮-র মধ্যে বিদেশে দত্তক নেওয়া হয়েছে ২৩১০ জন শিশু। তাদের মধ্যে মেয়ে ১৫৯৪ জন। অর্থাৎ ৬৯ শতাংশ। দত্তকের বিষয়টি দেখার একমাত্র কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটি (সিএআরএ)’-র এক সদস্যের মতে, কন্যাসন্তানের প্রতি সমাজের বিরূপ মনোভাব যে বদলাচ্ছে, এটা তারই প্রতিফলন।

Advertisement



প্রশ্ন উঠেছে এটা কতটা সত্যি?

দত্তক নেওয়ার পুরো ব্যবস্থাটা এখন অনলাইনে হয়। আয়ের কোনও নিম্নসীমা না থাকলেও মোটামুটি শিক্ষিতদের পক্ষেই এই ব্যবস্থার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ বেশি। ছেলে বা মেয়ে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও মেয়ে দত্তক নেওয়ার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। এক, সমাজ সচেতনতা। দুই, যে শূন্যতা বোধ থেকে দত্তক নেওয়া, তা মেয়েই বেশি পূরণ করতে পারবে, বৃদ্ধ বয়সে বেশি দেখবে এমন প্রত্যাশা। তিন, ছেলে না পাওয়া। অপেক্ষা দীর্ঘায়িত করতে না চেয়ে পছন্দ বদল করে মেয়ে দত্তক নিয়েছেন, এমন নজির কম নয়।

যে কারণেই হোক, দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের ছবিটা উজ্জ্বল মনে হলেও, এই আলো কতটুকু? ইউনিসেফের হিসেব বলছে, ২০১১ সালে ভারতে অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৯৬ লক্ষ। নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা চাইল্ডলাইন ইন্ডিয়ার হিসেবে ২০১৭ সালে সংখ্যাটা ছিল ৩ কোটি।

বাস্তব সংখ্যাটা তার চেয়ে বেশি বলেই মনে করেন সমাজকর্মীদের অনেকে। এই বিপুল অভিভাবকহীন শিশুর মধ্যে সাকুল্যে ৪ লক্ষ ৭০ হাজার শিশু প্রাতিষ্ঠানিক আশ্রয়ে (১.৫৭ শতাংশেরও কম) রয়েছে বলে জানিয়েছিল ওই সংস্থা। আর মোদী সরকার জানাচ্ছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮, তিন বছরে গড়ে ৩৮০০ জন শিশু দেশে বা বিদেশে কোনও পরিবার পেয়েছে। প্রতি ১ লক্ষে সংখ্যাটা ১২।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement