নিরাপত্তা প্রশ্নে ফের কাঠগড়ায় রেডিও ট্যাক্সি।
মাসখানেক আগে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই শিরোনামে এসে পড়েছিল একটি মার্কিন অ্যাপ নির্ভর ট্যাক্সি সংস্থা। দিল্লিতে গাড়ির মধ্যেই এক মহিলা যাত্রীকে ধর্ষণ করেছিলেন চালক। এ বারও ঘটনা সেই দিল্লির। হঠাৎই চলন্ত এসি গাড়িটিতে আগুন লেগে যায়। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেন যাত্রী। মুহূর্তে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে ট্যাক্সিটি।
এ ঘটনা অবশ্য পুলিশ-প্রশাসন অবধি গড়ায়নি। ওই মহিলা যাত্রীর স্বামী সংস্থাটির ফেসবুকে পেজ-এ বিষয়টি নিয়ে সরব হলে, পুলিশ স্রেফ ‘তদন্ত করে দেখা হচ্ছে’ জানিয়েই কাজ সেরেছে। এমনকী আগুন লাগার কথাও স্বীকার করেনি।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ১৮ অগস্টের ঘটনা। ইন্দিরা গাঁধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে রেডিও ট্যাক্সি ডেকে নিয়েছিলেন প্রাচী কল। ৩-৪ কিলোমিটার যাওয়ার পর হঠাৎ সমস্যা দেখা দেয় ট্যাক্সিতে। প্রাচীর দাবি, গাড়ি থামিয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছিলেন চালক। ফের গাড়ি স্টার্ট দিতে যাবেন, হঠাৎই অন্য একটি গাড়ি পাশে এসে থামে। ওই গাড়ি থেকেই বলা হয়, ট্যাক্সিটিতে আগুন লেগেছে। যাত্রী যেন দ্রুত নেমে আসেন। এ দিকে ট্যাক্সিটি ততক্ষণে চলতে শুরু করেছে। আগুপিছু না ভেবে তড়িঘড়ি ঝাঁপ দেন মহিলা। এর পরই জ্বলে যায় গোটা গাড়িটা।
প্রাচীর স্বামী কপিল বলেন, ‘‘ও এত ভয় পেয়ে গিয়েছে, বাড়ি থেকে বেরোতে পর্যন্ত চাইছে না। এতটাই আতঙ্কিত যে হয়তো আর কোনও দিনও এ ধরনের ট্যাক্সিতে উঠবে না।’’
সংস্থার চিফ অপারেটিং অফিসার রাজেশ মুঞ্জল বলেন, ‘‘আগুনের ব্যাপারটা পুরোটাই মিথ্যে। গাড়ির বাতানুকূল ব্যবস্থায় কোনও রকম যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছিল। তাতেই বনেট থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকে। কিন্তু দু’দিন আগেই নিয়মমাফিক মেরামতি করা হয়েছিল!’’ যদিও অন্য একটি সূত্রের খবর, শেষ মেরামতি করা হয়েছিল দু’বছর আগে। অথচ মুঞ্জলের দাবি, গাড়িটি দু’বছর আগে কেনা।
তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘আমরা ওই মহিলাকে অন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু উনি সাহায্য নিতে চাননি।’’
গত বারের দিল্লির ঘটনায় সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অভিযুক্ত মোবাইল অ্যাপ নির্ভর ট্যাক্সি সংস্থাটিকে। যদিও তাতে এ ধরনের সংস্থাগুলির রমরমা এতটুকু কমেনি। তাতেই প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক পরিষেবার প্রতিশ্রুতিতে রেডিও ট্যাক্সির জনপ্রিয়তা যে হারে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাত্রী-নিরাপত্তার কথাও ভেবে দেখা হচ্ছে তো? — সংবাদ সংস্থা