দিন কয়েক আগেই চিনের কমিউনিস্ট পার্টি জানিয়েছে, দু’বারের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর নিয়ম তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে তারা। সে ক্ষেত্রে, নতুন নিয়ম চালু হলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং আজীবন দেশের প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকতে পারবেন।

সেই চমকের রেশ কাটতে না কাটতেই নয়া ঘোষণা। প্রতিরক্ষা খাতে গত বারের বাজেটের থেকে ৮ শতাংশ বারানো হল বরাদ্দ— প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। আজ বেজিংয়ের পার্লামেন্ট অধিবেশনে এই বাজেট প্রস্তাব ঘোষণা করে ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনপিসি)। ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর মতে, প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি খরচ করার দৌড়ে আমেরিকার পরেই চিন। ভারতের থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি বরাদ্দ তাদের।

এ দিনের পার্লামেন্টরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী লি খ্যছিয়াং বাজেট রিপোর্ট পেশ করে বলেন, ‘‘পাথরের মতো শক্ত হতে সেনাকে, বিশেষ করে যখন জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজা হচ্ছে।’’ অনেকেরই মতে, খ্যছিয়াংয়ের এই বক্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ। দক্ষিণ চিন সাগর ও ভারত-চিন সীমান্তে বাহিনী মোতায়েনের উপরে আরও জোর দিতে চলেছে চিন। পড়শি দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই বেজিংয়ের এই পদক্ষেপকে তাই গুরুত্ব দিয়েই দেখছেন কূটনীতিকরা।

দু’বারের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর নিয়ম তুলে দেওয়া হবে কি না, তার ভোটাভুটি হওয়ার কথা ১১ মার্চ। আভাস, নিয়ম তুলে দেওয়ার পক্ষেই সর্বসম্মত ভাবে ভোট পড়বে। সে ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ সেনার দেশে মাও জে দংয়ের পরে চিনফিং-ই হবেন সব চেয়ে শক্তিশালী নেতা। একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি, আগামী দু’সপ্তাহ পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালীন দু’টি প্রস্তাবই পাশ হয়ে গেলে, হয়তো আরও দু’টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ, নতুন যুদ্ধবিমান তৈরি করবে চিন। নিজেদের সমুদ্রপথ ছাড়িয়ে আরও বহু দূর পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাতেও রয়েছে বেজিং।