এ মাসে সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট পদটি এ বার সেখানে ‘মালয় মুসলিম’ প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ার কথা। কিন্তু পদপ্রার্থীদের মধ্যে ভারতীয় এবং পাকিস্তানির বংশোদ্ভূতরাও রয়েছেন। তাঁরা প্রকৃত মালয় বলে গণ্য হবেন কি না, তাই নিয়ে বেঁধেছে বিতর্ক।

বহুজাতি সংবলিত দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য যাতে প্রশাসনেও প্রতিফলিত হয়, তাই সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংরক্ষণ প্রথা চালু হয়েছে। গত বছরই সংসদীয় কমিশন সুপারিশ করেছ্, কোনও জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি যদি লাগাতার পাঁচ বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী না হন, তবে পরের নির্বাচন ওই জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত হবে। সেই অনুযায়ী এ বছর নির্বাচনে মালয় মুসলিমদের পালা এসেছে। তার মধ্যে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সংসদের স্পিকার হালিমা ইয়াকুব-এর।

কিন্তু হালিমার মা মালয় হলেও, বাবা ভারতীয়। তাই তাঁকে ভারতীয় বলে বিবেচনা করার দাবি উঠছে। সমালোচকদের তির বিঁধেছে আর এক প্রার্থী সালেহ্ মারিকানকেও। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত। এখনও মালয় ভাষা শিখছেন, বলতে অসুবিধাও হয়। তৃতীয় প্রার্থী ফরিদ খানের পরিচয়পত্রেই লেখা, তিনি পাকিস্তানি। কিন্তু ফরিদের দাবি, তাঁর গোটা পরিবার মালয় সংস্কৃতি অনুসরণ করে। তাই তিনি অবশ্যই মালয় জনগোষ্ঠীর অংশ।

এ দিকে শাসক দল পিএপি-র প্রাক্তন সাংসদ ও গত বারের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্যান চেং বোক এই সংরক্ষণ-প্রক্রিয়ারই বিরোধিতা করেছেন। কারণ আগের পাঁচটি প্রেসিডেন্ট জমানার গণনা শুরু করা হয়েছে ১৯৯১ সাল থেকে। ট্যান-এর দাবি, সে বারের প্রেসিডেন্ট উই কিম উই জনতার দ্বারা নির্বাচিতই ছিলেন না। তাই গণনা হওয়া উচিত ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট ওং টেং চেয়ং-এর নির্বাচন পর্ব থেকে।

তাঁর দাবি, সংরক্ষিত নির্বাচন শুরু হোক ২০২৩ থেকে। ৩১ জুলাই পাঁচ বিচারকের একটি প্যানেলে ট্যান-এর আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। সেই শুনানি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে জানা যায়নি।