তাঁর পদত্যাগ চেয়েই প্রতিবাদ আন্দোলনে নেমেছেন হংকংয়ের অসংখ্য বাসিন্দা। গত কাল পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষও হয়েছে তাঁদের। এ বার সেই বিক্ষোভকারীদেরই ‘দাঙ্গাকারী’ বলে তাঁদের ভূমিকার আজ কড়া সমালোচনা করলেন হংকংয়ের প্রশাসনিক প্রধান ক্যারি ল্যাম। যার জেরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে গত মাসের শুরুতে পথে নামেন হংকংয়ের বাসিন্দাদের একাংশ। বিলটি আইনসভায় পাশ হলে যে কোনও অপরাধীর বিচারে প্রয়োজন হলে তাঁকে চিনের মূল ভূখণ্ডে প্রত্যর্পণ করা যাবে বলে জানিয়েছিলেন ল্যাম। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিক্ষোভে উত্তাল হয় হংকং। শান্তিপূর্ণ মিছিলই এক সময়ে হিংস্র হয়ে উঠেছিল। প্রবল চাপে পড়ে বিলটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন ল্যাম।

কিন্তু হংকংবাসীর দাবি, গোটা বিলটি প্রত্যাহার করতে হবে ল্যামকে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক সংস্কারও করতে হবে এই স্বশাসিত সরকারের। চিনের অনুগত ল্যাম থাকলে তা সম্ভব না বলেই মনে করেন বিরোধীরা। তাই ল্যামকে সরানোর দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফের বিক্ষোভ চলছে হংকংয়ে। সেই সঙ্গে আগের প্রতিবাদ কর্মসূচির সময়ে পুলিশের রবার বুলেট চালানো নিয়ে তদন্তেরও দাবি করেছেন বিরোধীরা। 

গত কাল তিন প্রদেশের শপিং মলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু পুলিশের দাবি, ছাতা, বোতল-সহ বিভিন্ন জিনিস ছুড়ে মারা হয়েছে তাদের দিকে। বাধ্য হয়ে পুলিশকেও লাঠি চালাতে হয়। পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ল্যাম। বিক্ষোভকারীদের তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেন, ‘‘কাল যা হয়েছে তাতে এদের দাঙ্গাকারী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। মোট ৪০ জনকে ধরা করা হয়েছে অশান্তি ছড়ানোর জন্য। পুলিশ সংযত ভূমিকা পালন করেছে।’’