• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে হুঁশিয়ারি আমেরিকার

1
হাফিজ ও মাসুদ। ফাইল চিত্র।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপি কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। পাকিস্তান জুড়ে বিতর্কিত কিছু সংগঠনের ১২১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পাকিস্তানের ‘সাম্প্রতিক সক্রিয়তা’ চোখে পড়েছে আমেরিকার। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের ৪৪ জনকে আটক করার বিষয়টি নজরে এসেছে আমেরিকার।

মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র রবার্ট প্যালাডিনো সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘‘আমেরিকা সবসময় সন্ত্রাস প্রতিরোধে পাকিস্তানের ভূমিকার উপর নজর রাখছে।’’

ওয়াশিংটনে সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র রবার্ট প্যালাডিনোকে পুলওয়ামা হামলা ও পাকিস্তানে জঙ্গিদমন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি তখনই জানান, ভারতের আনা অভিযোগ নিয়ে সব তথ্যই তাঁদের কাছে পৌঁছেছে। প্রতিটি রিপোর্ট খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে বৈঠকে জৈশ-লস্কর-হিজবুল, ভারতে হামলার ছক

 সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়টিও স্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।প্যালাডিনো আরও জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেয়ো সম্প্রতি খুব সদর্থক ভূমিকা নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: মধ্যস্থতাতেই আস্থা, অযোধ্যা মামলায় তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করল সুপ্রিম কোর্ট

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন ইমরান খান। দু’দিন আগেও জইশ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সরকার। কিন্তু মাসুদ আজহারকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে কিছুই জানায়নি তারা। উল্টে ইমরানের দলে যোগ দিয়েছেন হরকত উল মুজাহিদিন নেতা মওলানা ফজলুর রহমান খলিল।

আরও পড়ুন: ভারতে সন্ত্রাসবাদ হামলা কবে, কোথায়

২০১৭ সালে গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্তি দেওয়া হয় আরেক জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদকে। তখন থেকে পাকিস্তানকে আরও কড়া নজরে রেখেছিল আমেরিকা। পাকিস্তানে বসে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতায় মদত দিয়ে এসেছে হাফিজ সইদ। ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রীও সে, যাতে ১৬৬ জন মানুষ প্রাণ হারান। তার জেরে ২০০৮ সালের ১০ ডিসেম্বর তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু গৃহ বন্দি দশা থেকে পাক সরকার মুক্তি দিয়েছে এই হাফিজকেই। 

সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি পাকিস্তানের একটা ‘রিভলভিং ডোর’ নীতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মার্কিন বিদেশ দফতরের এক অফিসার। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জঙ্গিদের আটক করার মানে তাঁদের বিলাসবহুল ভাবে রাখা।

মেজর জেনারেল আসিফ গফুর সম্প্রতি বলেন, পুলওয়ামায় হামলার দায় জইশের স্বীকার করে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে সম্প্রতি সেনা মুখপাত্র দাবি করেন, পাকিস্তান থেকে এমন কোনও কথা বলা হয়নি। এ ছাড়া, মাসুদের সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযানও কারও চাপে করা হয়নি। পাক সেনা মুখপাত্র বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বের উচিত জঙ্গি মোকাবিলায় পাকিস্তানকে সাহায্য করা।’’

মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে প্যালাডিনো বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকায় সন্ত্রাসবাদী হিসেবে নাম রয়েছে মাসুদের সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের। তাই পাকিস্তানের উপর জঙ্গিদমন ইস্যুতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানকে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে পাক সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ১৮২টি মাদ্রাসাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আটক করা হয়েছে ১২১ জনকে। বৃহস্পতিবার লাহৌরে হাফিজের সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া ও ফালাহ-ই-ইনসানিয়তের সদর দফতর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পঞ্জাব প্রদেশের সরকার। ভারতীয় কূটনীতিকদের অনেকেই অবশ্য মনে করেন, জইশ-ই-মহম্মদ কিংবা জামাত-উদ-দাওয়ার মতো জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পদক্ষেপ লোক দেখানো।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন