বাল্যবিবাহ কমছে গোটা বিশ্বে। মঙ্গলবার ইউনিসেফ জানিয়েছে, এতে ভারতের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের শিশুকল্যাণ সংস্থাটি জানাচ্ছে, নাবালিকাদের বিয়ে সব থেকে বেশি কমেছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এক দশকে আড়াই কোটি। সারা বিশ্বে ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা ৫০ থেকে নেমে হয়েছে ৩০ শতাংশ।

এই পরিবর্তনের কারণগুলিও চিহ্নিত করেছে ইউনিসেফ। এক, মেয়েদের শিক্ষার হার বাড়ছে। দুই, বাড়ছে কিশোরীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প। তিন, বাল্যবিবাহ যে অবৈধ ও এর কুফল নিয়ে সমাজের জোরাল বার্তারও ভূমিকা রয়েছে। এই সবেরই মিলিত ফল স্পষ্ট পরিসংখ্যানেও। বিশ্বে এক দশক আগেও যেখানে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে শতকরা ২৫টি মেয়ের বিয়ে দেওয়া হত, এখন তা ২০-তে নেমে এসেছে। ইথিওপিয়ায় এমন বিয়ে এক-তৃতীয়াংশ কমেছে এক দশকে। তবু অকাল-বিয়ের সমস্যা এখন সবচেয়ে প্রবল আফ্রিকায়।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, তাদের হাতে আসা সর্বশেষ  পরিসংখ্যান বলছে, এখনও বিশ্বে প্রতি বছর মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছর হওয়ার আগেই। এই মূহূর্তে বিশ্বের ৬৫ কোটি বিবাহিত মহিলা রয়েছেন, ১৮ বছর হওয়ার আগেই যাঁদের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে হবে না দলাইয়ের অনুষ্ঠান

ইউনিসেফের প্রধান লিঙ্গ-উপদেষ্টা অঞ্জু মলহোত্রের বক্তব্য, শৈশবে বিয়ে হলে জীবনভর ফল ভোগ করতে মেয়েদের। পড়াশোনা শেষ হয় না। জোটে স্বামীর অত্যাচার। জটিলতা বাড়ে গর্ভাবস্থায়। এমন বিয়ের প্রভাব পড়ে সমাজেও। পরিবারগুলি দারিদ্র্যের শিকার হয় কয়েক প্রজন্ম ধরে। অঞ্জুর কথায়, ‘‘বাল্যবিবাহে একটি মেয়ের গোটা জীবনটা বদলে যায়। এটা যে কিছুটা কমেছে, সেই খবরকে স্বাগত। তবে এখনও পেরোতে হবে দীর্ঘ পথ।’’

বিশ্বনেতারা ২০৩০-এর মধ্যে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তা যদি সত্যি সম্ভবও হয়, তাতেও ২০৩০ সালের মধ্যে আরও অন্তত ১৫ কোটি মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে নাবালিকা অবস্থায়। অঞ্জু তাই বলছেন, ‘‘এই কুপ্রথা যেন কোটি কোটি মেয়ের শৈশব কেড়ে না নেয়, তার জন্য আরও অনেক বেশি তৎপর হতে হবে সকলকে।’’