একটা-দু’টো নয়। পর পর ৭০টি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল আমেরিকার বস্টন শহর সংলগ্ন তিনটি এলাকা। তবে সন্ত্রাসবাদী হামলা নয়, প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইন ফেটেই এই বিপত্তি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে এক জনের। আহত ১২।

ঘটনা বৃহস্পতিবারের। ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ম্যাসাচুসেটস প্রদেশের লরেন্স, অ্যান্ডোভার এবং নর্থ অ্যান্ডোভারের একটা বড় অংশ। রাজধানী বস্টন থেকে এলাকাগুলির দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। পুলিশ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লেগে যায়। একসঙ্গে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে ওই তিন এলাকার অনেকগুলি বাড়ি। খবর পেয়ে আগুন নেভাতে ছোটে প্রায় ৫০টি কেন্দ্রের দমকল বাহিনী। আতঙ্কে তখন অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছেন। পুলিশ এসে সেই সব বাড়ি খালি করে দেয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকা থেকে সরানো হয়েছে শ’খানেক বাসিন্দাকে। মোট ৩৯টি বাড়ি আগুনের গ্রাসে পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। আরও বিপদ এড়াতে বিস্ফোরণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ওই তিন এলাকার গ্যাস আর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। অন্ধকারের মধ্যেই কার্যত যুদ্ধ চালিয়ে প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী।

গত কালের বিস্ফোরণে মারা গিয়েছে লিয়োনেল রবসন নামে লরেন্সের বাসিন্দা আঠারো বছরের এক তরুণ। বিস্ফোরণের জেরে একটি বাড়ির চিমনি উড়ে এসে পড়ে তাঁর গাড়িতে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন দমকলের বেশ কিছু সদস্যও। ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত অসুবিধে নিয়ে যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁদের অনেককেই ছেড়ে দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিসার পরে। কিন্তু আগুনে পুড়ে যাওয়া বেশ কিছু রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

লরেন্সেই থাকেন বছর পঞ্চান্নর লরি উইলিয়ামস। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময়ে তিনি দেখেন এলাকার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। ‘‘আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। ভয়ে পেয়ে গিয়েছিলাম খুব। প্রথমেই ভেবেছিলাম গ্যাসের লাইন থেকেই বিপর্যয় হয়েছে নিশ্চয়ই’’, বললেন লরি। তাঁর বাড়ি থেকে তিনটি বাড়ি দূরেই বড় বিস্ফোরণ হয়েছে। তাই আপাতত লরির ঠাঁই হয়ছে স্থানীয় আশ্রয় শিবিরে। একটি পাইপলাইনে অতিরিক্ত চাপ হওয়ার ফলেই প্রথম বিস্ফোরণটি হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। যে সংস্থা ওই এলাকাগুলিতে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে, তারা আগেই জানিয়েছিল নির্দিষ্ট ওই তিন এলাকারই পাইপলাইনে সারাইয়ের কাজ শুরু হবে। সেখানেই কাল বিস্ফোরণ হয়। তবে বিস্ফোরণের ঠিক আগে সেখানে কোনও কাজ চলছিল কি না, তা নিশ্চিত নয় পুলিশ।

‘ট্রান্সপোর্টেশনস পাইপলাইন অ্যান্ড হ্যাজ়ার্ডার্স সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর প্রাক্তন প্রধান ব্রিগহ্যাম ম্যাকাউন জানালেন, আমেরিকার ইতিহাসে এই ধরনের ঘটনা বিরল। তাঁর কথায়, ‘‘এমন বিস্ফোরণ আগে হয়নি তা নয়, তবে এ বারের পরিস্থিতি ভয়াবহ।’’