সৌদি সমাজে খোলা হাওয়া আনতে ধর্মীয় পুলিশদের প্রতিপত্তি আগেই রদ করে দিয়েছিলেন যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। কিন্তু তার পরিবর্তে ‘সৌজন্য’ আইন পাশ করে নজরদারি জারি রাখতে চান তিনি। মুক্তমনাদের দাবি, এ আসলে মুদ্রার অপর পিঠ। সমাজে ধর্মীয় প্রতিনিধিদের ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতা বলবৎ করার প্রচেষ্টা মাত্র। পাশাপাশি রক্ষণশীল ও আধুনিক দুই সমাজেই নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কৌশল। 

এই ‘সৌজন্য’ আইনের রূপরেখা কেমন হবে, কবে থেকে, কী ভাবে তা বলবৎ হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সরকারি সূত্রের মতে, এপ্রিলে সৌদি আরবের মন্ত্রিসভায় আইনটি পাশ হয়। ২৫ মে তা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৭ মে জানানো হয়, সেটি চালু হচ্ছে না। কবে হবে, তার নির্দেশিকাও জারি হয়নি। ওই আইনে জনসমক্ষে আচরণবিধি বেঁধে দেওয়া হবে। তাতে মেয়েদের খোলামেলা পোশাক থেকে পুরুষদের শর্টস পরা নিষিদ্ধ। এমনকি কোনও ছবি যদি সমাজের পক্ষে ‘ক্ষতিকর’ বলে মনে হয়, নিষিদ্ধ হবে তা-ও। নিয়ম ভাঙলে ৫ হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা। এই আইনকে ব্যঙ্গ করে কিছু মিম ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটিতে দেখা গিয়েছে, সৌদির ঐতিহ্যবাহী আলখাল্লার মতো পোশাক পরে ট্রেডমিলে হাঁটছেন এক ব্যক্তি। ফলে সৌদির রক্ষণশীল সমাজে আদৌ কতটা খোলা হাওয়া ঢোকে সেটাই এখন দেখার।