স্টর্মি কেলেঙ্কারি রাজনৈতিক ভাবে প্রেসিডেন্টের ক্ষতি করবে কি না, এ বার উঠছে সেই প্রশ্ন।

পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সম্পর্ক’ নিয়ে জোরদার বিতর্ক চলছে। এ বার সেই বিতর্কে অন্য মাত্রা যোগ করেছে হোয়াইট হাউসের প্রেস-সচিব সারা স্যান্ডার্সের মন্তব্য। স্টর্মি গত বুধবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করার পরে সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রশ্ন ওঠে, সত্যিই কি ট্রাম্প ওই পর্ন তারকার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন? এর জবাবে সারা স্যান্ডার্স বলেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর এই মামলা সালিশির মাধ্যমে জেতাও হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত যা বলার, একমাত্র বলতে পারেন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আইনজীবী।’’ সারার এই উত্তর নিয়েই তৈরি হয়েছে আর এক প্রস্ত জল্পনা।

হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের বক্তব্য, সারার জবাবে অনেকেই বিস্মিত। কারণ সালিশির মাধ্যমে মামলা জেতানোর কথা যখন উঠছে, তার অর্থ কি এটাই দাঁড়ায় না যে ওই পর্ন তারকার সঙ্গে ট্রাম্পের সত্যিই কোনও সম্পর্ক ছিল‌! এর পরে সারাকে প্রশ্ন করা হয়, মুখ বন্ধ রাখার জন্য স্টর্মির পিছনে যে অর্থব্যয় হয়েছে, তা কি সত্যিই প্রেসিডেন্টের অজানা ছিল? প্রেস-সচিবের উত্তর, ‘‘আমি অন্তত জানি না। মার্কিন জনতা জানেন। তাঁরা প্রেসিডেন্টকে ভোট দিয়েছেন।’’ এখানেও ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন সারা। কারণ স্টর্মির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের বিষয়টি ভোটের আগে তো ফাঁসই হয়নি। ফলে ভোটাররা বিষয়টি জেনে ভোট দিয়েছেন, এমন নয়।

ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেনের অ্যাটর্নি লরেন্স রোসেন দাবিকরেন, সালিশি বিচারক বলেছিলেন, স্টর্মি চুক্তি লঙ্ঘন করেছেন। স্টর্মি ওরফে স্টেফানি ক্লিফোর্ডের আইনজীবী মাইকেল অ্যাভেনাটি এক বিবৃতিতে আবার দাবি করেছেন, ‘‘যে সালিশির কথা বলা হচ্ছে, তাতে ট্রাম্প কোনও পক্ষ হিসেবে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। আপনি যে মামলার অংশই নেননি, তা জিতলেন কী ভাবে?’’

আর ছ’-সাত মাস পরেই আমেরিকায় ‘মিড টার্ম’ নির্বাচন। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর ৪৩৫টি আসনের সব ক’টিতে এবং সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৩টি আসনেনির্বাচন হবে। তা ছাড়া, গভর্নর নির্বাচনহবে ৩৬টি প্রদেশ ও তিনটি প্রাদেশিক অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের ভাগ্য নির্ধারণে স্টর্মি-ঝড় প্রভাব ফেলতেই পারে।