শুরু হল ‘হ্যালো ডক্টর’ বিভাগ। এ বারের বিষয় ব্রণ-র সমস্যা। এই সংক্রান্ত আপনাদের পাঠানো নানা প্রশ্নের মধ্যে বিভিন্ন রকমের দশটি প্রশ্ন বেছে নিয়েছি আমরা। আনন্দবাজার ডিজিটাল-এর বিশেষ মেল আইডি query@abpdigital.in-এ পাঠানো আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন চর্মরোগ ও ত্বকবিশেষজ্ঞ সঞ্জয় ঘোষ।

২০১৪ থেকে আমি পলিসিস্টিক ওভারিতে ভুগছি। তখন থেকেই ব্রণর সমস্যা। ব্রণর দাগও কিছুতেই যেতে চায় না। খুব ব্যথাও হয়। এর জন্য ঠিকঠাক ডায়েট কী হওয়া উচিত ও কী ভাবে এই ব্রণ সারবে জানালে উপকৃত হব। —চন্দ্রিমা নিয়োগী, ২৮

সঞ্জয় ঘোষ: এই ধরনের ব্রণর মূল সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস)। এই অসুখ বাড়াবাড়ি রকমের থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই বয়সের ব্রণকে অ্যাডাল্ট ব্রণ বলে। কোনও রকম তেল-মশলাদার খাবার চলবে না, ডায়েট বলতে মূলত এটাই। যা-ই খান, যেন তেল কম থাকে। দুগ্ধজাত দ্রব্য ডায়েটে না রাখাই ভাল। ব্রণর সমস্যা থাকলে এটা এড়াতে হবে। ত্বকেও তেলবিহীন প্রসাধনী ব্যবহার করুন। অবশ্যই অয়েল ফ্রি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এতে ব্রণ অনেকটা আয়ত্তে আসবে। ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে, পিসিওএস–এর জন্য।  নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। তার পরেও সমস্যা না কমলে ত্বকবিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তবে পাশাপাশি পিসিওএস-এর চিকিৎসাও করে যেতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রায়ই মাল্টিটাস্কিং করেন? অজান্তেই নিজের কী ক্ষতি করছেন জানেন?

ব্রণর সমস্যা এড়াতে নজর দিন খাওয়াদাওয়ার দিকেও।

আমার ছেলের ১৩ বছর বয়স। গত দেড় বছর ধরে সে ভয়ানক ব্রণর সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে ঘাড়ে, গলায় খুব ব্রণ হয়। মুখের ত্বকও মোলায়েম ও মসৃণ নয়। কী করব? খাওয়াদাওয়া নিয়েও কিছু উপদেশ পেলে বাধিত হব। —নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক

সঞ্জয় ঘোষ: প্রথমেই মাথায় ও মুখে তেল মাখানো বন্ধ করুন। ঘাড়ে বা গলায় ব্রণ তখনই হয়, যখন মাথায় তেল পড়ে। ২-৩ ঘণ্টা অন্তর মুখে তেলবিহীন সানস্ক্রিন লাগান। বাজারচলতি তেলহীন ক্রিমে ভরসা না থাকলে ত্বকবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সনস্ক্রিন বাছুন। মাথায় খুশকি থাকলে তারও যত্ন নিতে হবে। খুশকি সারাবে এমন মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিষ্কার রাখুন। কোনও রকম তেল-মশলা চলবে না। প্রসাধনও নয়, চামড়াকে মোলায়েম ও মসৃণ করতে ওই সানস্ক্রিনেই ভরসা রাখুন। ডেয়ারি প্রোডাক্টও না দেওয়াই ভাল।

গরমের সময় খুব ব্রণ হয়। দু’বেলা মুখ পরিষ্কার করি ফেস ওয়াশ দিয়ে। তাতেও কমছে না, কী করব? —অভিনন্দিতা বসু, ২১

সঞ্জয় ঘোষ: ফেসওয়াশ চলবে না। ঠান্ডা জলে মুখ পরিষ্কার করে ধোবেন। কোনও রকম কেমিক্যাল দেওয়া প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে না। অয়েল ফ্রি সানস্ক্রিনই একমাত্র ভরসা। খাওয়াদাওয়ায় নজর দিন। তেল-মশলা দেওয়া খাবার একেবারে নয়।

আমার ত্বক এমনিতেই খুব তেলা। দু’গালে ব্রণর মতো ছোট ছোট ফুসকুড়ি হয়। দু’-এক দিন পর সেগুলো বসে গিয়ে জায়গাটা কালো হয়ে যায়। কী করব? —অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, ৩৭

সঞ্জয় ঘোষ: চেহারা ভারী হলে সেটা আগে কমাতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে না এলে পরবর্তীতে এমন অনেক রোগ ধরবে, যার প্রকাশ ব্রণ বা অন্যান্য ত্বকের অসুখ ডেকে আনবে। ভারী (রিচ) ও তেলমশলাদার খাবার খাবেন না। যেহেতু ত্বক তেলতেলে তাই এমনিও তেল আছে এমন প্রসাধন ব্যবহার করবেন না। তেলবিহীন সানস্ক্রিন তো মাখতেই হবে, সঙ্গে সেলুনে গিয়ে চুল-দাড়ি কাটা বন্ধ করুন। বাড়িতেই শেভ করুন কিন্তু শেভিং ক্রিম চলবে না। শেভ করুন শেভিং ফোম দিয়ে। আর একেবারেই ব্রণ খুঁটবেন না।

আরও পড়ুন: কোমরের বাড়তি মেদ বা ভুঁড়ি? জব্দ কেবল এই তিন প্ল্যাঙ্কে!

তেলবিহীন সানস্ক্রিনে আস্থা রাখুন।

ব্রণর জন্য ত্বক কালো হয়ে যাচ্ছে। কী করে এই সমস্যা কাটানো যায়?— শৌর্য্যদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৬

সঞ্জয় ঘোষ: টিনএজ ব্রণ বলে এগুলোকে। সাধারণত খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম, তেল-মশলাদার জাঙ্ক ফুড, পেটের গোলমাল, লিভারের সমস্যা থেকেই এই ধরনের ব্রণ হয়। জাঙ্ক ফুড এড়াতে হবে। তেল আছে এমন প্রসাধনও চলবে না। তেলহীন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মাথায় তেলহীন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

আমার সারা মুখেই ব্রণয় ভর্তি হয়ে গিয়েছে। আকারে খুব ছোট আর প্রায় সারা মুখ জুড়েই এমন বেরয়। এর কি কোনও স্থায়ী সমাধান আছে? —রাজা পাল

সঞ্জয় ঘোষ: যে কোনও ব্রণর সমসময়ই সারতে দেরি হয়। চটজলদি কিছু হবে না ঠিকই, তবে কয়েক মাস নিয়ম মানলে সেরে যায় সমস্যা। তেল-সাবান খুব সাবধানে ব্যবহার করুন। যে কোনও প্রসাধনী কিনে ফেলবেন না। ত্বকবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই প্রসাধনী কিনুন। তেলবিহীন সানস্ক্রিন দু’ঘণ্টা অন্তর অন্তর মাখুন।

আমি কোনও ক্রিমই মুখে মাখি না। তবু সারা বছর ব্রণর সমস্যায় ভুগি এবং এই দাগছোপগুলোও থেকেই যায়। কী করব বুঝতে পারছি না। —দীপিকা মণ্ডল

সঞ্জয় ঘোষ: ক্রিম না মাখাও খুব একটা কাজের কথা নয়। অয়েল ফ্রি সানস্ক্রিন মাখুন। দাগ সরানোর জন্য ত্বকবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে, কারণ, নির্দিষ্ট কোনও ক্রিম বা ওষুধ দিতে হলে আপনার অন্যান্য অসুখ সম্পর্কেও জানা দরকার। আর এগুলি একটি চিকিৎসার প্রসেসের মধ্যে দিয়ে কমে। চটজলদি দু’-একটা ক্রিমে বা ওষুধে কমানো যায় না, তাই আপাতত তেল-মশলা খাবার ছাড়া ডায়েটের অভ্যাসের করুন, তাতে কিছুটা উপকার পাবেন। আর ঘরোয়া উপায়ে নানা জিনিস মেখে অনেক সময় ভুল করি আমরা, সে সব না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

আরও পড়ুন: জানেন কীভাবে মানবদেহে ছড়ায় নাইল ভাইরাস?

ক্রিম মাখি না, তবু মুখের এক পাশে নিয়মিত ব্রণ হয়। দাগও থেকে যাচ্ছে। কী করণীয়? —শুভ্রা মজুমদার, ২৫

সঞ্জয় ঘোষ:বালিশের চাপ বা হাত দিয়ে ঘষা এ সব কি ওই দিকটিতেই বেশি করে পড়ছে? সে সব কারণেও ওই নির্দিষ্ট দিকের নির্দিষ্ট অঞ্চলে ব্রণ হতে পারে। সে দিকে খেয়াল রাখুন আর ব্রণর সাধারণ কারণ, ত্বকের অতিরিক্ত তেল। তাই সে সব নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করুন। যেমন, কম তেলের রান্না খান, তেলহীন সানস্ত্রিন লাগান, মাথায় তেল দেবেন না। তেল আছে এমন প্রসাধন থেকেও দূরে থাকুন। আর দুগ্ধজাত জিনিস খাবার পাতে রাখবেন না।

ব্রণ খোঁটা অন্যতম বদভ্যাস, অসুখ সারতেও সময় লাগে।

আমরা ডায়েটে চলি, তেল মশলার খাবার খাই না। তবু আমার স্বামীর মুখে, বিশেষ করে কপালে ব্রণয় ভর্তি হয়ে গিয়েছে। কী উপায়?——সুনন্দা রায়

সঞ্জয় ঘোষ: ডায়েটে চলেন খুবই ভাল কথা। ও ভাবেই খাওয়াদাওয়া করুন। কিন্তু তেল মাখছেন কি? তা হলে সেটাও বন্ধ করতে হবে। লোশন বা ক্রিম যা-ই ব্যবহার করুন তা অয়েল ফ্রি হতে হবে। আর শেভিং ফোম ব্যবহার করুন। ক্রিম বা জেল নয়।

মোটামুটি কত বছর বয়স অবধি ব্রণর সমস্যা হয়? আর এর মূল সমাধান কী কী? —তড়িৎ রায়

 সঞ্জয় ঘোষ: এত দিন ধরা হত, টিন এজ ও অ্যাডাল্ট মিলিয়ে ২৫-২৬ বছর বয়স পর্যন্ত ব্রণ ভোগায়। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে তার পরেও ব্রণ হয়। আজকাল হচ্ছে। বিশেষ করে মেয়েদের পিসিওএস-এর সমস্যাও এই ব্রণর অন্যতম কারণ।

সমাধান বলতে মূলত, তেল বাদ দেওয়া ত্বক থেকে, খাওয়াদাওয়ায় যতটা পারেন তেল বর্জন করা, শরীরচর্চা, শরীরে মেদ জমতে না দেওয়া, যেমন-তেমন প্রসাধনী না ব্যবহার করা, বছরে এক বার অন্তত ত্বকবিশেষজ্ঞের থেকে পরামর্শ নিয়ে চলা।