সুতি ন্যাচারাল ফ্যাব্রিক। তুলো থেকেই সুতো তৈরি করে নানাভাবে বুনে তৈরি হয় সুতির পোশাক। ফলে এই ফ্যাব্রিকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।

 

কাচবেন কীভাবে

• সুতির পোশাক খুব সংবেদনশীল। খুব সহজে এই ফ্যাব্রিক ছিঁড়ে যায়। তাই আছাড় মেরে বা খুব বেশি ঘষে না কাচাই ভাল। ঠান্ডা জলে সাবান গুলে সুতির পোশাক ভিজিয়ে রাখুন। মিনিট পনেরো থেকে আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলেই যথেষ্ট। এর পরে নরম হাতে থুপে কেচে নিন।

• সুতির পোশাক খুব বেশি নোংরা করবেন না। একবার কাচার পরে দু’তিনবার পরেই তা কেচে নিন। একটানা বেশিদিন পরলে নোংরা দাগ চেপে বসে যাবে।

• এই ফ্যাব্রিকে যদি কোনও দাগ বসে যায়, তা হলে আগে সেই জায়গার দাগ তুলে নিতে হবে। তার পরে পোশাক সাবানজলে ভেজান।

 

শোকানোর সময়ে

• সুতির পোশাকে সাধারণত মাড় দেওয়া হয়। মাড় দেওয়ার পরে তার জল ঝরিয়ে নিন। বেশি জোরে কাপড় নিংড়াবেন না। 

• হালকা রোদে ও হাওয়ায় পোশাক শুকোতে পারেন।

• দড়িতে পোশাক মেলার সময়ে খুব টানটান করে মেলবেন না। তা হলে পোশাক শুকোনোর সময়ে টান লেগে পোশাকের কোনও একটা দিক অহেতুক বেড়ে যেতে পারে। 

• আগে জল ঝরিয়ে দড়ির উপরে মেলে মাঝে ক্লিপ লাগান। 

 

ইস্ত্রি করার সময়ে

• সুতির পোশাক আগে উলটে নিতে হবে। ভিতরের দিক ইস্ত্রি করে তবেই সোজা দিক ইস্ত্রি করুন। এতে পোশাকে ভাঁজ খেলবে না। 

• স্টিম আয়রন দিয়েই সুতির পোশাক ইস্ত্রি করা ভাল। স্বাভাবিক ইস্ত্রি হলে পোশাকের উপরে অল্প জল ছিটিয়ে নিন।

 

খেয়াল রাখবেন

• গরমে পোশাকের আন্ডারআর্মসের অংশে বা শরীরে ভাঁজের অংশে ঘাম জমে বেশি। ফলে পোশাকেও সেই ঘাম লাগে। ঘাম লাগা অবস্থায় পোশাক ভাঁজ করে রেখে দেবেন না। এতে পোকা ধরতে পারে, ফলে সেই অংশের ফ্যাব্রিক হেজে যেতে পারে বা পোকার কামড়ে নষ্ট হতে পারে।

• সুতির পোশাক একবার পরে কাচতে না চাইলে রোদে দিয়ে রাখতে হবে। অন্ততপক্ষে একঘণ্টা রোদে দিয়ে তুলে নিন। তা হলে পোশাকের ঘাম তো শুকিয়ে যাবেই, কোনও ব্যাকটিরিয়া বা পোকা বাসা বাঁধতে পারবে না।

সুতির পোশাক আলমারিতে রাখার সময়ে উপরে বা সেই তাকে অল্প কর্পূর বা কালো জিরে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে সুন্দর গন্ধ বেরোবে, পোশাকও ভাল থাকবে।