পৃথিবীর সব প্রেম আমাদের দু’জনের মনে। আমরা সমস্তটাই ভাগ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। খাবার, বন্ধুত্ব তো রয়েছেই, এমনকি পাসওয়ার্ডও!‌

ভালবাসার এমনতর দাবি যাঁরা নিজেদের জন্য বরাদ্দ করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাঁরা একটা বিষয়ে নিঃসন্দেহ হতে পারেন, আর যাই হোক, আপনার সম্পর্কটি প্রেমের নয়।

হ্যাঁ, মনোবিদরা তাই-ই বলছেন। তাঁদের স্পষ্ট কথা, সম্পর্কে আদানপ্রদান হতে পারে নানা কিছু। ভাবনা, গান ,বই ইত্যাদি হাজার অনুষঙ্গ হতে পারে। কিন্তু ফেসবুক পাসওয়ার্ডটি নয়।  মনোবিদ সাম্রাজ্ঞী সরকার বলছেন, ‘‘আসলে সামাজিক সম্পর্কে অনেক সূক্ষ্ম ক্ষমতা কাজ করেন। বিশেষ করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তো বটেই। আমাদের দুর্ভাগ্য আজও অনেক মানুষ তাঁদের স্ত্রীকে তাঁর অধীনস্ত মনে করেন। ভাবেন তাঁদের কোনও ব্যক্তিগত চাওয়াপাওয়া, নিজস্ব স্পেস থাকতে পারে না। ওঠা-বসা সমস্ত কিছুতেই কর্তৃত্ব করে তারা এক ধরণের আনন্দ পান। আর একটা দিক আছে, সেটা হল অনিশ্চয়তার। বলা ভাল, আত্মবিশ্বাসের অভাব। নিজের সম্পর্কে, বলা ভাল নিজেদের রসায়ন সম্পর্কে কোনও বিশ্বাস না থাকলে মনে সন্দেহপ্রবণতা জন্মায়। এই ধরন থেকেই এই ধরণের ইচ্ছের জন্ম।"

আরও পড়ুন: মাত্র চারটে সহজ উপায়! ডার্ক সার্কল কমবে ম্যাজিকের মতো

সম্পর্কে আস্থা রাখুন, পাসওয়ার্ডে নয়।

সব থেকে বড় কথা এই ইচ্ছাগুলো নেশার মতো। এক বার পাসওয়ার্ড পাওয়া মানে, আপনার ইচ্ছা করবে একটা গোপনীয়তা লঙ্ঘন করি। তখন তার ফোন-ফেসবুক সমস্তটাই নিজের মনে হবে, সব সময় নজরদারি চালানোর প্রবণতাও তৈরি হবে। যা আদৌ কাম্য নয়।

শুনতে খারাপ লাগলেও এ কথা সত্যি। ‘একটা মানুষ গোটাটাই আমার’— এই ধারণাটা থেকেও বেরিয়ে আসার সময় এসে গিয়েছে। হ্যাঁ, তাঁর উপর আপনার কিছু দাবি আছে, তা সত্যি। চোখ বুঝে বলেই ফেলা যায়, সে আপানার সবচেয়ে আপন। কিন্তু তাঁর কোনও নিজস্ব জগত নেই, এমন ভাবাটা আপনার পছন্দের মানুষের প্রতি অন্যায়। তার থেকে অনেক সহজ বিশ্বাসটুকু রাখা। পার্টনার যতটুকু প্রবেশাধিকার দিচ্ছে ততটুকুও কেবল আপনারই, এই বোধটি অর্জন করা।

সম্ভ্রম, শ্রদ্ধা বন্ধুত্ব বড় নাকি পাসওয়ার্ড, ভেবে দেখুন তো!